ঢাকা, ২৪ আশ্বিন (৯ অক্টোবর) :
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মু্স্তফা কামালের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ও বিশ্ব ব্যাংকের
দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ শেফার এর নেতৃত্বে বিশ্বব্যাংকের
প্রতিনিধি দলের মধ্যে গতকাল এক ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অর্থ বিভাগের সিনিয়র
সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিনসহ
সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ এবং বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রিডিরেক্টর মার্সি
টেম্বনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।
অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের সহায়তার জন্য
ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারি খাতে সহজ
শর্তে আরো অধিকতর অর্থায়নের পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বেসরকারি খাতেও
সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রতি অনুরোধ করেন। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে
বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দক্ষতা ও সক্ষমতার কথা
বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন। অর্থমন্ত্রী, ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর
পুনরুজ্জীবন ও সংস্কারের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম সুপ্রাচীন ঐতিহাসিক শহর ঢাকা মহানগরীকে
আরো অধিকতর নান্দনিক শহরের পাশাপাশি যোগাযোগ সহজীকরণের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের
সহযোগিতায় একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্ট গ্ৰহণের জন্য বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টকে
আহ্বান জানান। বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতারও আশ্বাস প্রদান
করেন।
সভায় হার্টউইগ শেফার বিশ্বব্যাংকের International Development Association (IDA)-এর
সম্পদের সর্ববৃহৎ ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি
IDA- এর অর্থায়নে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশকে রোল মডেল
হিসেবে অভিহিত করে বাংলাদেশের এই দক্ষতা ও সাফল্যকে  বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ এর বার্ষিক
সম্মেলনে যথাযথভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে IDA খাতে উন্নত ও ধনী দাতাদেশসমূহের অধিকতর
অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালনে নেতৃত্ব প্রদানের আহ্বান জানান। তিনি
বিশ্বব্যাংকের IDA খাত থেকে সহায়তা গ্রহণের  ৫০ বছরপূর্তি এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা
অর্জনের ৫০ বছরপূর্তিতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সরকার
ও জনগণকে শুভেচ্ছা জানান।
হার্টউইগ শেফার দারিদ্র্য দূরীকরণ, দুর্যোগ মোকাবিলাসহ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত
পরিস্হিতিতে বাংলাদেশের গৃহীত লাগসই পরিকল্পনা ও এ সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জিত
সাফল্যেরও প্রশংসা করেন।  এ সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে নেতৃত্ব প্রদান করতে পারে মর্মে
অভিমত ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে  যাওয়ার ক্ষেত্রে
অর্থমন্ত্রী ও সরকারের উচ্চ পদস্হ কর্মকর্তাগণের সহযোগিতা কামনা করেন।