ঢাকা, ১৫ অগ্রহায়ণ (৩০ নভেম্বর) :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল ১ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি
উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :

“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী,
আভিভাবক, শিক্ষকমণ্ডলী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা
ও অভিনন্দন জানাই। প্রতিষ্ঠার পর হতে আজ পর্যন্ত অনন্য দক্ষতায় মনন ও মানবিকতায়
অভূতপূর্ব সংশ্লেষ ঘটিয়ে এই মহীরূহ বিদ্যায়তন সমগ্র দেশকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে পরিপুষ্ট করে
চলেছে।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত ভেঙ্গে অত্র অঞ্চলে যে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সৃষ্টি হয়, সেই
রাষ্ট্রটি বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর নিরাপদ আবাসভূমি ছিল না- এ সত্যটি সবার আগে অনুধাবন
করতে পেরেছিলেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের তৎকালীন তরুণ ছাত্র শেখ মুজিবুর রহমান,
যিনি সবার আগে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা পালন
করেছেন এবং কালক্রমে হয়ে উঠেছেন বাঙালি জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু, বাঙালি ইতিহাসের মহানায়ক ও
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। সেই থেকে ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কিত জ্ঞান ও বিজ্ঞানের নিবিড়
চর্চা এবং দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি
‘বাংলাদেশ’ নামক একটি জাতিরাষ্ট্র সৃষ্টিতে এ প্রতিষ্ঠানটির অনবদ্য অবদান চিরকাল স্মরণীয়
হয়ে থাকবে। ’৫২ এর ভাষা-আন্দোলন, জাতির পিতা ঘোষিত-’৬৬ এর ছয়-দফার ভিত্তিতে
স্বায়ত্বশাসন আন্দোলন এবং তাঁর আহ্বানে ’৭১ এর মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং পরবর্তীকালে
সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন, অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক সত্তার বিকাশ ও দেশের গণমানুষের
আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারীগণ অগ্রভাগে থেকে
অব্যাহতভাবে নেতৃত্ব প্রদান করেছেন।

স্বাধীনতা অর্জনের পরপরই ১৯৭২ সালে একটি সুশিক্ষিত জাতি গঠনের লক্ষ্যে জাতির পিতা
বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করেছিলেন। উচ্চশিক্ষা প্রসারের জন্য তাঁর দূরদর্শী
নির্দেশনায় ১৯৭৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডিন্যান্স ঘোষণার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী
কমিশন গঠন করা হয়, যার মূল বার্তা ছিলো- বিশ্ববিদ্যালয়ে চিন্তার স্বাধীনতা ও মুক্ত-
বুদ্ধিচর্চার পরিবেশ সৃষ্টি করা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আমরা যতবারই সরকার গঠন
করেছি, জাতির পিতার মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে ততবারই ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়সহ, দেশের সকল
শিক্ষাঙ্গণ সন্ত্রাস-বহিরাগতমুক্ত করে শিক্ষা-গবেষণার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছি। এই
বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে খুবই গৌরব অনুভব করি, শেখ কামাল, সুলতানা
কামালসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের অনেক সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলামনাই। তাই এই
বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমার রয়েছে নাড়ীর সম্পর্ক। আওয়ামী লীগ সরকার সবার জন্য মানসম্মত
শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নকে টেকসই করতে নিরলস কাজ
করে যাচ্ছে। বিশ্বায়ন ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজ্ঞান, তথ্য ও প্রযুক্তি
জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে ছাত্র-ছাত্রী ও
অভিভাবকগণের সর্বাত্মক সহযোগিতা আমাদের কাম্য। জাতির পিতা শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে
বলেছিলেন, ‘আগামী প্রজন্মের ভাগ্য শিক্ষকদের ওপর নির্ভর করে। ছাত্র-ছাত্রীদের যথাযথ

শিক্ষা ব্যত্যয় ঘটলে কষ্টার্জিত স্বাধীনতা অর্থহীন হবে।’ তাই নতুন জ্ঞান আহরণ, উদ্ভাবন,
অনুশীলন ও বিতরণে সম্মানিত শিক্ষকগণকে আরো তৎপর এবং আন্তরিক ভূমিকা পালন করার
জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

এমন একটি সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান পালিত হচ্ছে, যখন সমগ্র
বিশ্বে কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস মহামারিতে জনজীবন বিপর্যস্ত। এই ক্রান্তিকাল অতিক্রম
করার ক্ষেত্রেও এ বিশ্ববিদ্যালয় তার গবেষণা-প্রচেষ্টা নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে জেনে
আমি আনন্দিত। অধিকতর উন্নত গবেষণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে যে কোন সংকট
উত্তরণে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষা-গবেষণা,
বিজ্ঞান, প্রযুক্তিসহ জ্ঞানের সকল শাখায় এগিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। আমরা ২০২১ সালের
মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে
তুলতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। আমার বিশ্বাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীগণ দেশপ্রেম, সততা
ও নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁদের অর্জিত জ্ঞান, মেধা-মনন ও সৃজনশীলতা প্রয়োগ করে জাতির পিতার ক্ষুধা-
দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।
আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ
সফলতা কামনা করছি।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধ
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”