কেবিন ক্রু সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নিয়ে বিতর্ক, সভাপতিকে শোকজ
রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স–এর কেবিন ক্রু এসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে ঘিরে এ বিতর্কের সূত্রপাত। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
যা ঘটেছিল
গত ২০ জানুয়ারি, শুক্রবার রাতে রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত প্যান ডে এশিয়া রেস্টুরেন্টে কেবিন ক্রু ঐক্যজোটের উদ্যোগে নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল মূলত আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, গান, নাচ এবং কেক কাটার আয়োজন ছিল। কেবিন ক্রুদের নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাসহ কয়েকজন আমন্ত্রিত অতিথিও উপস্থিত ছিলেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আমন্ত্রিত কর্মকর্তারা রাত আনুমানিক ৮টার দিকে অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং রাত ১০টার মধ্যে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। তাদের উপস্থিতিকালে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
ভিডিও ভাইরাল ও সমালোচনা
তবে পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের দিকে কয়েকজন কেবিন ক্রু একটি কেক কাটছেন। সেখানে দুই ব্যক্তির নামের সঙ্গে অশোভন শব্দ সংযুক্ত ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। একইসঙ্গে গভীর রাত পর্যন্ত গান ও নাচের কিছু দৃশ্যও ভিডিওতে দেখা যায়।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন—রাষ্ট্রীয় একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ব্যক্তিগত বা সংগঠনিক অনুষ্ঠানে এমন আচরণ কতটা শোভন। কেউ কেউ মন্তব্য করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শোকজ ও ব্যাখ্যা চাওয়া
ঘটনার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ কেবিন ক্রু এসোসিয়েশনের সভাপতি ফিরোজ মিয়া আবীরকে শোকজ নোটিশ প্রদান করে। নোটিশে বলা হয়, অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগের পর কীভাবে কথিত অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে হবে।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, কমিটির সভাপতি হিসেবে এ ঘটনার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
সভাপতির বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে সভাপতি আবীর বলেন, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে রাত ১১টার মধ্যেই শেষ হয়। পরে এক সহকর্মীর অনুরোধে তার সন্তানের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা হয় বলে তিনি দাবি করেন। তবে অশালীন কেক বা বিতর্কিত অংশের বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও জানান।
তিনি লিখিতভাবে একটি ব্যাখ্যা জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচকরা বলছেন, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায় নির্ধারণ প্রয়োজন।
আগের অভিযোগের প্রসঙ্গ
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এর আগেও সভাপতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। যদিও সেসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বড় কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
প্রশ্ন ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলা নিয়ে
এ ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পেশাদার আচরণ ও শৃঙ্খলার বিষয়টি। একটি জাতীয় এয়ারলাইন্সের কর্মীদের ব্যক্তিগত ও সংগঠনিক কার্যক্রম কতটা সংযত ও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত—তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তদন্ত ও লিখিত জবাব পর্যালোচনার পর কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।
SOBUZ BANGLADESH