ঢাকা |

‘এমপি-মন্ত্রী নয়, মঞ্জু মিয়ার ছেলে হিসেবেই থাকতে চাই’—ভোলায় তথ্যমন্ত্রী পার্থ

‘এমপি-মন্ত্রী নয়, মঞ্জু মিয়ার ছেলে হিসেবেই থাকতে চাই’—ভোলায় তথ্যমন্ত্রী পার্থ ছবির ক্যাপশন :
header 3_728
ভোলা বোরহানউদ্দিন  প্রতিনিধি:

‘আমি কোনো এমপি নই, কোনো মন্ত্রী নই—আমি আপনাদের মঞ্জু মিয়ার ছেলে হিসেবে থাকতে চাই।’ ভোলার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এমন মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ।

বুধবার (২ আগস্ট) দুপুরে ভোলা শহরের নতুন বাজার চত্বরে আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

পার্থ বলেন, আওয়ামী লীগ গত ১৭ বছরে দেশকে এমন অবস্থায় নিয়ে গেছে যে দেশের অর্থনীতির কোমর ভেঙে গেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন। এখন দেশকে সেই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড় করাতে হবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সবার দোয়া ও সহযোগিতা পেলে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে পার্থ বলেন, ২০০৮ সালে তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু। তার বাবা মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জু ২০০৬ সালে মারা যাওয়ার পর জীবনের কঠিন সময়ে তাকে রাজনীতিতে আসতে হয়। সে সময় ভোলার মানুষের কাছে তার একটাই পরিচয় ছিল—তিনি মঞ্জু মিয়ার ছেলে।

তিনি বলেন, ২০০৮ সালে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীসহ ভোলার মানুষ তাকে সহযোগিতা করেছেন এবং বিশ্বাস করে সংসদে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। এরপর দীর্ঘ ১৮ বছর তিনি নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে রাজনীতি করেছেন। বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ না করে জেল-জুলুমের মুখেও নিজের রাজনৈতিক অবস্থানে অটল ছিলেন।

ভোলার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জীবনের প্রতিটি কঠিন সময়ে এ অঞ্চলের মানুষ তার পাশে দাঁড়িয়েছে। এ জন্য তিনি আজীবন ভোলাবাসীর কাছে ঋণী থাকবেন। নির্বাচনে কেউ তাকে ভোট দিয়েছেন, কেউ দেননি—তবে তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করতে চান। এ জন্য সবার সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

নিজের অবস্থান তুলে ধরে পার্থ আরও বলেন, সন্ত্রাস, কমিশন বাণিজ্য, জিআর, টিআর, কাবিখা কিংবা ঠিকাদারির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি আল্লাহ ও মানুষের ওপর নির্ভরশীল। ভোলার মানুষের ভালোবাসা এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি নির্বাচিত হয়েছেন।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিষয়ে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের জন্যও তার দরজা খোলা থাকবে। ভোলার উন্নয়নমূলক কাজে যে কেউ তার কাছে আসতে পারবেন। এ জেলায় কোনো ধরনের প্রতিহিংসার রাজনীতি হতে দেওয়া হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

এ সময় দীর্ঘদিনের ভোলাবাসীর দাবি ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গেও কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সেতু নির্মাণের প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি ভোলার সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।

পার্থ বলেন, ভোলা থেকে হিজলা-মুলাদী হয়ে শরীয়তপুরের মাধ্যমে ঢাকায় যাতায়াতের একটি বিকল্প রুট বিবেচনায় রয়েছে। এ পথে যাতায়াত করলে প্রায় ৪০ মিনিট সময় কম লাগতে পারে।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ভোলা সফরে আসেন আন্দালিভ রহমান পার্থ। দুপুরে বরিশাল থেকে স্পিডবোটে ভোলা সদর উপজেলার খেয়াঘাটে পৌঁছালে তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা বিএনপি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা তথ্য অফিস এবং বিজেপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : SobuzBanlgadesh
প্রতিবেদকের তথ্য
SobuzBanlgadesh

SobuzBanlgadesh

সর্বশেষ সংবাদ
‘এমপি-মন্ত্রী নয়, মঞ্জু মিয়ার ছেলে হিসেবেই থাকতে চাই’—ভোলায়

‘এমপি-মন্ত্রী নয়, মঞ্জু মিয়ার ছেলে হিসেবেই থাকতে চাই’—ভোলায়