ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মুক্তিযুদ্ধ কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, এটি জনযুদ্ধ - তারেক রহমান

মুক্তিযুদ্ধ কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, এটি জনযুদ্ধ - তারেক রহমান ছবির ক্যাপশন :
header 3_728
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ কোনো দল বা ব্যক্তির নয়, এটি ছিল একটি জনযুদ্ধ। সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত যুদ্ধ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অন্যতম চরিত্র শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আমরা দেখেছি অতীতে জিয়াউর রহমানকে ও দেশের জন্য তাঁর অবদানকে নানাভাবে খাটো করার চেষ্টা করা হয়েছে।
এ থেকেই প্রমাণিত, জিয়াউর রহমান দেশের মুক্তিযুদ্ধে একজন অনিবার্য চরিত্র। তিনি আরও বলেন, আলোচনা-সমালোচনা ও গবেষণার নামে এমন কোনো কিছু করা ঠিক হবে না, যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে খাটো করে।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে গতকাল বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং দলটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহসহ দলের সিনিয়র নেতা ও বিশিষ্টজন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ওয়াকিল আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। আলোচনা সভার শুরুতে দলের প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা নেসারুল হক।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অতীত নিয়ে সব সময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, আর অতীতকে ভুলে গেলে দুই চোখই অন্ধ। অতীতকে ভুলে যাওয়া যাবে না, আবার অতীত নিয়ে এত বেশি চর্চা হয়েছে, যা ভবিষ্যতকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের যে গৌরবগাথা আছে, তা নিয়ে আলোচনা হবে-এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে আলোচনা-সমালোচনা ও গবেষণার নামে এমন কোনো কিছু করা ঠিক হবে না, যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে খাটো করে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ শহীদ জিয়ার লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয়।
সে সময় মুক্তিযুদ্ধ মাত্র শেষ হয়েছে। তখন একজন মুক্তিযোদ্ধাও এ বইয়ের কোনো বিষয় নিয়ে বিরোধিতা করেননি। এতেই প্রমাণিত হয় শহীদ জিয়া দেশের মুক্তিযুদ্ধের অনবদ্য চরিত্র। তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়া প্রথম জীবনে অবশ্যই একজন রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন না। তিনি একজন সামরিক সৈনিক ছিলেন। তবে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার যে স্বপ্ন-তাঁর মনের মধ্যে সেই বোধ লালন করতেন, এটি কিন্তু তাঁর একটি লেখায় ফুটে উঠেছে। স্বাধীনতার চিন্তাচেতনা যে তিনি ধারণ করতেন, একটি স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য যে তাঁর একটা দীর্ঘ মানসিক প্রস্তুতি ছিল, সেটি আমরা তাঁর একটি লেখা থেকেই পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারি। কথাগুলো আমার নয়, কথাগুলো কারও মন গড়াও নয়। এই কথাগুলো আমরা তাঁর নিজের লেখনী থেকে জানতে পারছি।’
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমার দলের সহকর্মীদেরসহ প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক মানুষের কাছে আমি একটি কথা তুলে ধরতে চাই-আজকে আমাদের এই মহান স্বাধীনতা দিবসে আমাদের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন হলেও সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমাদের স্বাদ এবং সাধ্যের মধ্যে ফারাক থাকলেও আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাই, সবাই একসঙ্গে দেশের জন্য কাজ করি, তাহলে অবশ্যই আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। তাই এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার হোক, সমাজের একটি অংশ নয় বরং আমরা সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে এই দেশে আমরা ভালো থাকব। আসুন আমরা প্রত্যেকে একসঙ্গে সহাবস্থানের মাধ্যমে খারাপকে দূরে ঠেলে দিয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করব-এই অঙ্গীকার, প্রত্যাশা, প্রতিজ্ঞা করি।’
প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বলেন, ‘বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার আপনাদেরই সরকার, এটা এ দেশের মানুষের নির্বাচিত সরকার, এ দেশের মানুষের প্রতিষ্ঠিত সরকার। সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে লক্ষ্য করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। জনগণের জীবনমান উন্নয়নের বিভিন্ন পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করছি। প্রতিনিয়ত তার জন্য আপনাদের এই সরকার অক্লান্ত পরিশ্রম করছে, চেষ্টা করে যাচ্ছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বছরের পর বছর, এমনকি যুগের পর যুগ ধরেও বিশ্বের যেখানে যারা স্বাধীনতার লড়াই করেছেন সংগ্রাম করেছেন, একমাত্র তাদের পক্ষেই উপলব্ধি করা সম্ভব, স্বাধীনতার মূল্য কতখানি। আমরা যদি একটু পাশে তাকাই তাহলেই দেখতে পারব, স্বাধীনতার গুরুত্ব এবং তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারছে স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনের মানুষ।’
তিনি বলেন, ‘লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমরা ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা অর্জন করেছি, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে আমরা ২০২৪ সালে দেশ এবং স্বাধীনতা রক্ষা করেছি।’ এ সময় তিনি ২০২৪ সালে যাঁরা বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির ভিতরে থেকেও, বিভিন্ন অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেও প্রতিরোধ গড়েছিলেন, স্বৈরাচারকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছিলেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের বহু সহকর্মীকে সেদিন হারিয়েছি। প্রতিটি প্রাণের স্বপ্ন আছে আকাঙ্ক্ষা আছে-স্বপ্ন ছিল আকাঙ্ক্ষাও ছিল। সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণেই তাঁরা সাহসের সঙ্গে সেদিন লড়াই করেছিলেন ’৭১, ’৯০ এবং ’২৪-এ। ১৯৭১ থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামের সব শহীদের আকাঙ্ক্ষা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক তাঁবেদারমুক্ত একটি স্বাধীন সার্বভৌম নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। সেই লক্ষ্য অর্জনই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’

নিউজটি পোস্ট করেছেন : SobuzBanlgadesh
প্রতিবেদকের তথ্য
SobuzBanlgadesh

SobuzBanlgadesh

মুক্তিযুদ্ধ কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, এটি জনযুদ্ধ - তারেক রহম

মুক্তিযুদ্ধ কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, এটি জনযুদ্ধ - তারেক রহম