এইচ এম মাহমুদ হাসান
ঢাকার নবাবগঞ্জে অটোরিকশাচালক মো. রাহুল (১৯) হত্যা ও অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার আড়াই বছর পর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবারর (৮ অক্টোবর) ঢাকা জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ।
পিবিআই জানায়, ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বাসা থেকে খাবার খেয়ে অটোরিকশা নিয়ে ওয়ার্কশপে ঘুমাতে যান রাহুল। পরদিন তাকে ওয়ার্কশপে পাওয়া যায়নি। বন্ধ পাওয়া যায় তার মুঠোফোনও। একইসঙ্গে নিখোঁজ হয় তার অটোরিকশা।
দুই দিন পর ৯ ফেব্রুয়ারি সকালে ওয়ার্কশপের পাশে একটি জমির আইলের ঝোপ থেকে রাহুলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা মো. আবদুর রহমান বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্তে নেমে প্রথমে মো. সমেজকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় মো. সবুজ মিয়াকে। সবুজ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খবির ওরফে গোবিন্দ, মো. হাবিব ওরফে সজল এবং মো. লালন মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। লালনও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে রাহুলের আগে থেকেই পরিচয় ছিল। লালন ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। রাহুলসহ অন্যরা তার কাছ থেকে ইয়াবা কিনতেন এবং একসঙ্গে ইয়াবা সেবন করতেন। লালনের ইয়াবা ব্যবসার তথ্য রাহুল বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ করে দিতে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার দিকে সবুজ রাহুলকে অটোরিকশাসহ নবাবগঞ্জের একটি খোলা মাঠে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই লালন, সজল, সমেজ ও গোবিন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রথমে রাহুলকে ইয়াবা সেবন করানো হয়। পরে লোহার এঙ্গেল, রড ও অটোরিকশার ব্যাটারি দিয়ে আঘাত করার পর শ্বাসরোধে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
পরে মরদেহটি সজলের গরুর খামারে নিয়ে দুই দিন রাখা হয়। ৯ ফেব্রুয়ারি রাতের দিকে মরদেহটি ওয়ার্কশপের পাশে ফেলে রাখা হয়। এরপর রাহুলের অটোরিকশাটি বিক্রি করে টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন আসামিরা।
পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম.এন. মোর্শেদ, পিপিএম বলেন, মামলাটির তদন্তভার পাওয়ার পর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। দীর্ঘ আড়াই বছরের বেশি সময় পর নিরলস তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
SobuzBanlgadesh
.jpg)