দেশের পর্যটনশিল্পের বিকাশ ও ট্যুর অপারেটরদের পেশাগত কার্যক্রম সহজ করতে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ফি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকার বিমানবন্দর এলাকার ক্রাউন প্লাজায় বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, ট্যুর অপারেটরদের নিবন্ধনসংক্রান্ত বিদ্যমান বিধিমালা সংশোধনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের উত্থাপিত সুপারিশ ও প্রস্তাবনাগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রয়োজনীয় ফি কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, ট্যুর অপারেটরদের বিদেশ থেকে অর্জিত আয়ের বিপরীতে বিশেষ প্রণোদনা প্রদানের বিষয়টি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ফোরামে উপস্থাপন করা হবে। এ খাতের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যমান নীতিমালা পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের টেকসই বিকাশ, আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়াতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং সেবার মানোন্নয়নে সরকার কাজ করছে।
এবারের বিটিটিএফের প্রতিপাদ্য ছিল ‘এআই পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেস্টিনেশন’। মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার পর্যটন ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করতে পারে।
তিনি জানান, সরকার একটি সমন্বিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ করছে। এতে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি ও বৈশিষ্ট্যের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে এসব পর্যটনকেন্দ্র উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলছে। আগামী মাসে এটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে আগামী নভেম্বর থেকে তিন মাসব্যাপী কক্সবাজার পর্যটন কার্নিভাল আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয় এবং পর্যটনশিল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
SobuzBanlgadesh
.jpg)