এইচ এম মাহমুদ হাসান হাসান
রাজধানীর বাংলা মোটরে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে জাগরণ জাতীয় বৃত্তি–২০২৫-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেল ৫টায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলা ও অনলাইন বিভাগের মোট ১১০ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়।
জাগরণ সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট (JCD) আয়োজিত অনুষ্ঠানে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে প্রাইজমানি, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়। নিজেদের মেধা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবক ও শিক্ষকরা এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (BAEC) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীল কর্মকাণ্ড ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান জাগরণ সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্টের বিভিন্ন শিক্ষা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে পাশে থাকার এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নর্থভিউ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, গেটকো গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক এবং BYMPA-এর মহাসচিব মো. রুহুল আমিন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও জাগরণ সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্টের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আর্পিতা চৌধুরী।
বিশেষ অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভার যথাযথ বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দেবে। তাই শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
এদিকে জাগরণ জাতীয় বৃত্তির পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সৃজনশীল প্রতিযোগিতার বিজয়ীদেরও অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত করা হয়। ‘বিজয়ের কুইজ’, ‘একুশের কুইজ’, ‘একুশের কবিতা’ ও ‘একুশের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা’র বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
প্রতিযোগিতাগুলোতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তাদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। পুরস্কার বিতরণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কবিতা আবৃত্তি, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বিভিন্ন সৃজনশীল পরিবেশনা উপস্থিত অতিথি, অভিভাবক ও দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাগরণ সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক মো. ওসমান গনি শুভ্র।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে জাগরণ সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট ভবিষ্যতেও বিভিন্ন বৃত্তি, শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতা ও সৃজনশীল কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। শুধু ভালো ফলাফল নয়, জ্ঞান, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ প্রজন্ম গড়ে তোলাই জাগরণের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি এ ধরনের উদ্যোগকে আরও বৃহৎ পরিসরে এগিয়ে নিতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভার বিকাশ এবং শিক্ষাজীবনে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দেওয়ার লক্ষ্যেই জাগরণ জাতীয় বৃত্তি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বৃত্তি প্রদানের পাশাপাশি কুইজ, সাহিত্য, চিত্রাঙ্কন ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করাও এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
ভবিষ্যতে দেশের আরও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থীকে শিক্ষা ও মেধাবিকাশমূলক কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনার কথাও জানান আয়োজকরা।
কৃতি শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, অতিথি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় আনন্দঘন মিলনমেলায়। পুরস্কার গ্রহণের পর শিক্ষার্থীদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে অনুষ্ঠানস্থলে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অতিথি, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। জাগরণের প্রত্যয়—মেধার বিকাশ, শিক্ষার প্রসার এবং সৃজনশীল ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলা।
SobuzBanlgadesh
.jpg)