চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি॥
চরফ্যাশন উপজেলার চর মানিকা ইউনিয়নের চর কচ্ছপিযা গ্রামের প্রায় দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা দীর্ঘ ৪০ বছরেও পাকা হয়নি । বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটি সংস্কারহীন ও কাঁচা অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ওই এলাকার কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ । বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই এই সড়কটি কাদার সমুদ্রে পরিণত হয়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় । উপজেলার চরমানিকা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চরকচ্ছপিয়া বাজার থেকে পাকার মাথা মেইন সড়ক পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার কাঁচা সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘদিনের পুরোনো সড়কটি এখনো কাঁচাই রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সড়কের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি ও কাদায় সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চর কচ্ছপিযা গ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষ যাতায়াত করেন । বর্ষা এলে এই সড়ক দিয়ে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এমনকি পায়ে হেঁটে চলাও দুষ্কর হয়ে পড়ে। জরুরি অবস্থায় কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কোনো অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি গাড়ি গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে প্রসূতি মা ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের বাঁশের দোলায় করে বা খাটিয়ায় করে মূল সড়কে নিয়ে যেতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচন এলে জনপ্রতিনিধিরা রাস্তা পাকা করার বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু ভোট চলে গেলে কেউ আর খোঁজ নেন না। আমরা দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে শুধু আশ্বাসই পেয়ে আসছি, দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাইনি।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল মিজি, বারেক দালাল ও ফারুল বেগম জানান, দীর্ঘ চার দশক ধরে সড়কটি পাকা করার দাবি জানিয়ে এলেও এখনো কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। ফলে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার অভাবে পিছিয়ে পড়ছে পুরো এলাকার মানুষ।তাদের দাবি, কয়েক হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কটি পাকাকরণ করা হোক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিলে দীর্ঘ ৪০ বছরের ভোগান্তির অবসান হবে।চরকচ্ছপিয়া মৎস্য সমিতির সভাপতি আনচার ও স্থানীয় বাসিন্দা হান্নান বেপারী বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে সড়কটি কাঁচা থাকায় বর্ষায় কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। দ্রুত দেড় কিলোমিটার সড়কটি পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি।৯ নম্বর চরমানিকা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিনারা বেগম জানান, ইউনিয়ন পরিষদে নতুন করে বরাদ্দ এলে ওই কাঁচা রাস্তাটি মেরামত করা হবে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা আফরোজ জানান, স্থানীয়দের আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই রাস্তাটি নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।
SobuzBanlgadesh
.jpg)