আর্জেন্টিনার মহাতারকা আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত যা তাকে ব্যথিত করেছে, তবে সেই "সময় এসে গেছে"।
৩৯ বছর বয়সী মেসি ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতান। জাতীয় দলের হয়ে তিনি ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল করেছেন—যা তাকে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সর্বাধিক ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া বিবৃতিতে মেসি লিখেছেন, তিনি জাতীয় দলের জন্য সবকিছু দিয়েছেন, কিন্তু এখন আর "দেওয়ার মতো কিছু নেই"।
তিনি লেখেন, "সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে, অধ্যায়গুলো শেষ হয়ে যায়, আর এটি এমন একটি অধ্যায় যা আমাকে গভীরভাবে কষ্ট দিচ্ছে। আমি ভালোবেসেছি, ভালোবাসি এবং সবসময় ভালোবাসব জাতীয় দলের অংশ হতে। আমি আমার সবটুকু দিয়েছি, আর কিছু দেওয়ার নেই। তাছাড়া, আমাদের পেছনে কিছু অসাধারণ তরুণ খেলোয়াড় আসছে, যারা তাদের সুযোগ পাওয়ার যোগ্য।"
এর আগে আগস্টে, বাবার মৃত্যু (৬৮ বছর বয়সে দীর্ঘ অসুস্থতার পর) নিয়ে শোকাহত মেসি জানিয়েছিলেন তিনি ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন।
বিশ্বকাপ ফাইনালের দেড় মাস পর অবসরের ঘোষণা দিলেও রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী কিংবদন্তি জানিয়েছেন, তিনি অবসরের বার্তাটি লিখেছিলেন ২১ জুলাই, আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের দুই দিন পর।
তার মানে বিশ্বকাপ ফাইনালই হয়ে থাকল মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার রেকর্ড তার। একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে জিতেছেন বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল।
ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলা মেসি আরও বলেন, "আজ, বাবার সঙ্গে যা ঘটেছে তার পর, আমি আগের চেয়ে আরও বেশি নিশ্চিত হয়েছি।"
তার ক্লাব ক্যারিয়ার মেজর লিগ সকারের দল ইন্টার মায়ামির সঙ্গেই চলতে থাকবে।
২০০৫ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে ৬৩তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মেসি। কিন্তু মাত্র এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে ফুল-ব্যাক ভিলমোস ভানচাকের সঙ্গে সংঘর্ষে হাত ও কনুই লাগায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন তিনি।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে কঠিন সূচনা সত্ত্বেও মেসি পরবর্তীতে সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত হন। আর্জেন্টিনার হয়ে তিনি বিশ্বকাপ ও দুটি কোপা আমেরিকা শিরোপা জিতেছেন।
বিশ্বকাপে তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা—২১ গোল নিয়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপের (২২) ঠিক পেছনে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে মোট গোলের তালিকায়ও তিনি দ্বিতীয় (১২৫), যেখানে শীর্ষে আছেন তার সমসাময়িক প্রতিদ্বন্দ্বী পর্তুগালের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (১৪৬)।
মেসি প্রথমবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছিলেন ২০১৬ সালে। তবে পরে সেই সিদ্ধান্ত বদলান।
সে সময় চিলির বিপক্ষে কোপা আমেরিকার ফাইনালে আর্জেন্টিনা হেরে যায়। টাইব্রেকারে মেসি একটি পেনাল্টি মিস করেন, আর আর্জেন্টিনা নয় বছরে চতুর্থ বড় ফাইনালে হারের তিক্ত স্বাদ পায়।
জাতীয় দলের জার্সিতে কিছুই জিততে পারেন না—সমর্থকদের এই অপবাদ মাথায় নিয়েই এরপর অভিমানে অবসর ঘোষণা করেছিলেন মেসি। কিন্তু ফিরে এসে ক্যারিয়ারের শেষ অর্ধে ঘুচিয়েছেন সব অপূর্ণতা। নিজেকে নিয়ে গেছেন সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের তালিকায়। অনেকের মতে তিনিই সর্বকালের সেরা ফুটবলার।
সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে স্ট্যাটাসে লেখা হয়, ‘গত ২০ বছরের সমস্ত ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ। মাঠের ভেতরে আপনাদের চিৎকার ও সমর্থন শোনাটা খুব মিস করব। এখন থেকে আমি আপনাদের মতোই একজন হয়ে যাব, যে বাইরে থেকে সবসময় দলকে সমর্থন দিয়ে যাবে এবং পাশে থাকবে (ভালো সময়ে তো বটেই, খারাপ সময়ে আরও বেশি)।
পরিবার, সতীর্থ ও কোচদের প্রতি মেসির লেখেন, ‘আমার পরিবারকে সবসময় পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ, এত সুন্দর কিন্তু কঠিন একটি যাত্রায় আমার সঙ্গী হওয়ার জন্য। যেসব কোচ, সতীর্থ এবং কর্মকর্তাদের সাথে কাজ করার সুযোগ হয়েছে, তাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ। অবিস্মরণীয় সব স্মৃতি আর মুহূর্ত সাথে নিয়ে যাচ্ছি।’
ভালোবাসার কথা জানিয়ে মেসি বলেন, ‘সতীর্থদের সঙ্গে নিয়ে আপনাদের স্বপ্নের মতো কিছু মুহূর্ত উপহার দিতে পারার শান্তি আর গর্ব নিয়ে আমি বিদায় নিচ্ছি। আপনাদের সঙ্গে এই অভিজ্ঞতাগুলো নিয়ে বেঁচে থাকা সত্যিই এক উন্মাদনার মতো ছিল। সবাইকে ভালোবাসি!’
আর্জেন্টাইন সমর্থকদের হৃদয় ছুঁয়ে দেওয়া দুটি কথা খেলেন শেষে, ‘আমাকে আর্জেন্টাইন বানানোর জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। ভামোস আর্জেন্টিনা!
SobuzBanlgadesh
.jpg)