এইচ এম মাহমুদ হাসান
শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের পাশাপাশি তাদের সৃজনশীলতা ও বাস্তবজ্ঞান বাড়াতে রাজধানীর উত্তরায় প্রাইম রোজ স্কুলের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী শিশুমেলা শুরু হয়েছে। শিশুদের পরিচালনায় আয়োজিত এ মেলা শুক্রবার (২ অক্টোবর) শুরু হয়ে শনিবার (৩ অক্টোবর) পর্যন্ত চলে।
শুক্রবার সকাল ১০টায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে মেলার উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী দিলারা জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাইম রোজ স্কুলের চেয়ারম্যান প্রফেসর এ কে মিলন।
মেলার অন্যতম বিশেষ দিক ছিল শিশু-কিশোরদের সরাসরি ব্যবসায়িক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা। বিভিন্ন স্টল পরিচালনার মাধ্যমে তারা নিজেরাই পণ্য সাজানো, ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ, পণ্যের মূল্য নির্ধারণ, ক্রয়-বিক্রয় এবং হিসাব-নিকাশের মতো বিষয়গুলো হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পাচ্ছে। এতে পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রাথমিক ধারণা তৈরি হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে দিলারা জামান শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিশুদের শুধু বইয়ের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতা বাড়ে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. জুলকার নায়ন, উত্তরা সেক্টর-১২ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন এবং উত্তরা সেক্টর-১১ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মো. সালাউদ্দিন ভূঁইয়া।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ডা. তাছলিমা রহমান, লায়ন তাজুল ইসলাম নজরুলসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিশুদের সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা জরুরি। শিশুমেলার মতো আয়োজন তাদের নেতৃত্বের গুণাবলি, আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মেলায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন স্টলে শিশু-কিশোররা নিজেদের তৈরি ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন পণ্য নিয়ে অংশ নেয়। তারা নিজেরাই ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রি করছে এবং বিক্রয় শেষে আয়-ব্যয়ের হিসাবও করছে। এর মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে ব্যবসা, ক্রয়-বিক্রয়, যোগাযোগ ও অর্থ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা তৈরি হচ্ছে।
আয়োজকরা জানান, শিশুদের আনন্দের পাশাপাশি বাস্তব জীবনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। এমন উদ্যোগ শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যতে আত্মনির্ভরশীল ও সৃজনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়ক হবে।
SobuzBanlgadesh
.jpg)