দেশের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬ শুরু হয়েছে রাজধানী ঢাকায়। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) আয়োজনে তিন দিনব্যাপী এ মেলায় ২০টি দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থা এবং প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) মেলার উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী, এনডিসি।
এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘এআই পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেসটিনেশন’। পর্যটন খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, পরিবেশবান্ধব পর্যটনকে উৎসাহিত করা এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ জোরদার করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এবারের মেলায় পার্টনার কান্ট্রি হিসেবে রয়েছে মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও নেপাল।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেলায় ২০০টির বেশি বুথ ও স্টলে ২২০টিরও বেশি প্রদর্শক অংশ নিচ্ছেন। এ ছাড়া ২৫০ জনের বেশি কোয়ালিফায়েড বায়ার, ২ হাজার ৫০০-এর বেশি ট্রেড ভিজিটর এবং ৬০ হাজারেরও বেশি দর্শনার্থীর সমাগমের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা। চারটি থিমভিত্তিক প্রদর্শনী হলে বিমান সংস্থা, হোটেল ও ট্যুর অপারেটররা নিজেদের সেবা ও পণ্য তুলে ধরছেন।
মেলায় নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও আজারবাইজানসহ ২০টি দেশের পর্যটন খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি, ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার এবং বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করবে এ মেলা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশের পর্যটন খাত আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে নতুন এক যুগে প্রবেশ করছে। বিটিটিএফের মতো প্ল্যাটফর্ম দেশের পর্যটন খাতকে বিকশিত ও বিশ্বের মানচিত্রে তুলে ধরার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পর্যটনের চর্চা বাড়াতে অনন্য ভূমিকা রাখছে। দেশের পর্যটন খাতকে সামনে এগিয়ে নিতে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি জিএম আজিজুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কেইংলেট, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী এবং টোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ।
টোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ বলেন, “গত ১৩ বার সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় বিটিটিএফ আজ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ পর্যটন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এই মেলা দেশীয় পর্যটনকে বিশ্বের দরবারে যথাযথ ও যুগোপযোগীভাবে তুলে ধরবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে আমাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
এবারের মেলার টাইটেল স্পনসর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। এয়ারলাইনস পার্টনার হিসেবে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং প্লাটিনাম হসপিটালিটি পার্টনার ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট। এ ছাড়া জিডিএস (গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম) পার্টনার সেবার, পিআর পার্টনার ওপাস কমিউনিকেশনস লিমিটেড, টেকনোলজি পার্টনার এম৩৬০আইসিটি, ট্রান্সপোর্ট পার্টনার কনভয় সার্ভিস, ডিজিটাল পার্টনার মায়েস্ট্রো এবং অডিও-ভিজ্যুয়াল পার্টনার হিসেবে রয়েছে প্যানোরামা পিসি ক্রিয়েটরস ও রুচি। ভেন্যু পার্টনার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র (বিসিএফসিসি)।
মেলার আয়োজনে সহযোগিতা করছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ ও এফবিসিসিআই।
টানা ১৩টি সফল আয়োজনের পর এবার ১৪তম আসরে পদার্পণ করেছে বিটিটিএফ। বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরা এবং দেশি-বিদেশি অংশীজনদের মধ্যে যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মেলার সময়সূচি: ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে।
নিউজটি পোস্ট করেছেন :
SobuzBanlgadesh
SobuzBanlgadesh
.jpg)