এস এম আসাদুজ্জামান মিলন, গাজীপুরঃ
আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে সার্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং শ্রমিকদের পাওনা নিশ্চিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন। বুধবার ১৩ মে বেলা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘আঞ্চলিক শ্রম ক্রাইসিস প্রতিরোধ কমিটি’র এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এই কঠোর বার্তা প্রদান করা হয়। সভায় শ্রম আইন মেনে বেতন-বোনাস পরিশোধের তাগিদ দেয়া হয়।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: নূরুল করিম ভূ্ঁইয়া সভায় সভাপতিত্ব করেন। আসন্ন ঈদে শিল্প খাতের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি বলেন, "আসন্ন ঈদে সার্বিক শ্রম পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হলে, প্রতিটি কারখানাকে প্রচলিত শ্রম আইন কঠোরভাবে অনুসরণ করে সময়মতো বেতন ও বোনাস পরিশোধ করতে হবে। কোনোভাবেই শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিয়ে টালবাহানা সহ্য করা হবে না।"
জেলা প্রশাসক মোঃ নূরুল করিম ভূইয়া বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা গুলো তাদের নজরদারিতে রয়েছে। বিশেষ করে সাব-কন্ট্রাক্ট এবং ঝুঁকিপূর্ণ কারখানাগুলো। সাব-কন্ট্রাক্ট কারখানাগুলোকে সম্পূর্ণ আইনানুগভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কারখানাগুলোতে প্রশাসনের মনিটরিং বা নজরদারি জোরদার করতে হবে। শ্রমিকদের ছুটির বিষয়টি সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে যাতে মহাসড়কে যানজট নিরসন করা সম্ভব হয়।
সভায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন, জিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ রবিউল ইসলাম, জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ-২, হাইওয়ে পুলিশ, র্যাব, এনএসআই, ডিজিএফআই এবং ডিআইএফই এর প্রতিনিধিবৃন্দ। বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, বিএপিআই এবং শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন কারখানার মালিক প্রতিনিধিগণ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ শিল্প খাতের অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থিত বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি এবং শ্রমিক নেতারা গতানুগতিক চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জেলা প্রশাসনের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে মালিক-শ্রমিক এবং প্রশাসনের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে যেকোনো ধরনের শ্রম অসন্তোষ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। শিল্পনগরী গাজীপুরে ঈদের আনন্দ যেন বিষাদে রূপ না নেয়, সেজন্য প্রশাসন এখন থেকেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলে সভায় জানানো হয়।
SobuzBanlgadesh
.jpg)