খুরশীদ আলম, ভোলা জেলা দক্ষিণ প্রতিনিধি।
ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার-১৫ নং অধ্যক্ষ নজরুল নগর ইউনিয়নের মাঝের চর গ্রামের -৫ নং ওয়ার্ডের সালমা বেগম এর বাড়িতে পার্শ্ববর্তী -৩ নং ওয়ার্ডের আবুল কাশেমের পুত্র গরু ব্যবসায়ী আবুল বাশার (৩৮) কে মোবাইল ফোনে বাড়িতে ডেকে এনে হত্যার অভিযোগে উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে।যার মামলা নং -২২/তারিখ -২৮/০৯)২৬,ধারা-৩০২,২০১,০৩৪।
এলাকা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় অভিযুক্ত সালমা বেগম বাশার কে মোবাইল ফোনে তার বাড়িতে যেতে বলেন।স্থানীয় বাবুর হাট বাজারে থাকা বাশার সালমার ফোন পেয়ে তাৎক্ষণিক তার বাড়িতে যায়। এরপর থেকেই বাশারের ফোন পরিবারের লোকজন বন্ধ পেয়ে তার খোঁজ -খবর নেয়া শুরু করেন। কিন্তু কোথায় ও তার সন্ধান না পাওয়ায় বাড়িতে ডেকে নেয়া সালমা গং দের প্রতি তাদের সন্দেহ হলে তার বাড়িতেই তল্লাশি চালায় এবং দক্ষিণ আইচা থানায় বিষয়টি অবহিত করেন। শনিবার পেরিয়ে রাত এলেও বাশারের সন্ধান তখন ও পাওয়া যায় নি। পরদিন রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক সাড়ে দশটায় প্রত্যক্ষদর্শী ইউনুছের পুত্র আলমগীর (৪২) বাশারের মরদেহ সালমা'র পুকুরে ভাসতে দেখে ডাক চিৎকার করলে ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের রূপ নেয়। এতে হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা সালমা' র বসত ঘরে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায় এবং অভিযূক্ত দের উপর হামলা চালায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন এবং হত্যাকারী সালমা ও তার স্বামী সাইদুল ইসলাম কে গ্রেফতার করে থানা হেফাজতে নেন।
হত্যার কারণ - সালমা অত্যন্ত দূর্বৃত্তপরায়ন ও দূষ্টপ্রকৃতির নারী, জুয়েল নামের এক লোকের নিকট লগ্নি বাবদ তার ১০ হাজার টাকা পাওনা আদায়ের জন্য মামলা দায়ের করা ছিল, কিন্তু এই মামলায় জুয়েল কে ঘায়েল করা যায়নি, তাই তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করা হয়।এই মামলার ধার্য তারিখ ছিল রবিবার (২৭সেপ্টেম্বর) স্বাক্ষী মানা ছিল বাশার, কিন্তু সে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করায় হত্যা করা হয় তাকে।
যে ভাবে হত্যা - শরবতের সাথে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে পান করানোর পর পেট ফেড়ে হত্যার পর মরদেহ গুম করার জন্য দরজার পুকুরে খুটা গেড়ে ডুবিয়ে রাখা হয়। আসামি সাইদুল ইসলাম উত্তর কাঠি পাড়া নলছিটি, ঝালকাঠির সুলতান হাওলাদারের পুত্র।আজ ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে আসামি সাইদুল কে চরফ্যাসন উপজেলা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে অপর আসামি সালমা বেগম চরফ্যাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
SobuzBanlgadesh
.jpg)