এস এম মিলন স্টাফ রিপোর্টারঃ
নড়াইলের সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম গ্রামে চুরি সন্দেহে মানসিক প্রতিবন্ধী আনোয়ার হোসেন (৩০) কে গাছের সাথে বেঁধে মারপিট ও নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোমবার (২৯জুন) রাতে তার বড় ভাই নবীর হোসেন বাদী হয়ে ৫জনের নাম উল্লেখ করে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেছে। প্রতিবন্ধী আনোয়ার হোসেন বাঁশগ্রাম গ্রামের কাওছার উদ্দিন মোল্যার ছেলে।
মামলার এজাহার ও পরিবারের লোকজন জানান,আনোয়ার একজন মানসিক প্রতিবন্ধী মানুষ। গত ২৫ জুন সকালে সে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাতে আর বাড়িতে ফিরেন আসেনি। রাতে ঘোরাফেরার সময় গোবরা মালোপাড়া গ্রামের প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, সৌরভ বিশ্বাস,অপূর্ব বিশ্বাস,আকাশ বিশ্বাস ও হৃদয় বিশ্বাসসহ কয়েকজন মিলে আনোয়ার কে চোর সন্দেহ করে ধরে ফেলে। পরে তাকে একটি গাছের সাথে বেঁধে রাতভর বেদড়ক মারপিট ও শারীলিক নিযার্তন করা হয়। এসময় আনোয়ার হোসেন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল শিকদারের মাধ্যমে খবর পেয়ে নড়াইল সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। পরের দিন সকালে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা নড়াইল জেলা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে দেখতে পায়।
নড়াইল জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ অলোক কুমার বাগচী বলেন,মানসিক প্রতিবন্ধী আনোয়ার হোসেন কে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
আনোয়ার হোসেনের বড় ভাই নবীর হোসেন বলেন,আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতেন। সেই সুযোগে তাকে চোর সন্দেহ করে বেদড়ক মারপিট করা হয়েছে। ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
প্রধান অভিযুক্ত প্রসেনজিৎ বিশ্বাস কে বাড়িতে না পেয়ে তার মা স্মৃতি বিশ্বাস বলেন, আনোয়ার রাতে বাড়িতে ঢুকে ভ্যানের শিকল ধরে টানাটানি করছিল। এসময় ছেলে চোর চোর বলে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে গাছে বেঁধে মারপিট করেছে। তবে তাকে কে কে মারপিট করেছে আমি বলতে পারবো না।
নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু মঙ্গলবার (৩০জুন) সকালে বলেন, এ ঘটনায় তার ভাই নবীর হোসেন বাদী হয়ে ৫জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছে। তবে আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
SobuzBanlgadesh
.jpg)