গাজী তাহের লিটন, স্টাফ রিপোর্টার
রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নানা বাঁক পেরিয়ে
ব্যারিষ্টার আন্দালিব রহমান পার্থ মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। তাঁর মন্ত্রী হওয়ার খবরে নিজ নির্বাচনি এলাকা ভোলায় আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। বিজেপির পক্ষ থেকে ভোলা শহরে আনন্দ মিছিল করা হয়েছে। ভোলাবাসীও আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বইছে অভিনন্দের ঝড়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন চার মন্ত্রী, দুই প্রতিমন্ত্রীর শপথবাক্য পাঠ করান নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে ভোলা-১ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
এর পরপরই স্থানীয় নেতাকর্মীরা রাস্তায় নেমে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেন। নতুন বাজার এলাকায় দলটির জেলা কার্যালয় থেকে আনন্দ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি বাংলাস্কুল মোড়, সদর রোড ও চকবাজারসহ শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিভিন্ন স্লোগান দেন দলের নেতাকর্মীরা।
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান এই তরুণ নেতা ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে ভোলা-১ আসন থেকে জয়ী হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদে ফিরেছেন। সংসদে তাঁর দৃঢ় অবস্থান ও যুক্তিতর্কপূর্ণ বক্তব্য সরকারি ও বিরোধীদলের মধ্যে বেশ সাঁড়া জাগায়।
এদিকে নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, পার্থ মন্ত্রী হওয়ায় ভোলার দীর্ঘদিনের উন্নয়নের দাবিগুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হবে। ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির মধ্যে রয়েছে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ, জেলার গ্যাস সম্পদের কার্যকর ব্যবহার, শিল্পায়ন, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, নদীভাঙন রোধ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়নসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্প।
উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মোতাজিন বিল্লাহ বলেন, আগামী দিনে পিতা নাজিউর রহমান মঞ্জুর অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো ছেলে পার্থ করবেন বলে মনে করি। মেঘনা নদীবেষ্টিত দ্বীপজেলা ভোলার সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার দাবি বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সামনে এসেছে। পার্থ সাহেবও সংসদে ভোলার মানুষের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেছেন। ফলে মন্ত্রিসভায় তার অন্তর্ভুক্তির খবর ভোলাবাসীর কাছে শুধু একজন সংসদ সদস্যের মন্ত্রী হওয়ার বিষয় নয়; বরং জেলার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন প্রত্যাশার সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক সম্ভাবনা।
রাজনীতির সঙ্গে পার্থর সম্পৃক্ততা মূলত পারিবারিক সূত্রেই। তার বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর ছিলেন জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব এবং পরে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) প্রতিষ্ঠা করে দলটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের সঙ্গে তার বাবার রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার ধারাবাহিকতাই পরবর্তী সময়ে পার্থর রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে জহির উদ্দিন স্বপনকে সরিয়ে নতুন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ'র দায়িত্ব প্রাপ্তিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল। সামনের দিনগুলোতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হিসেবে কতোটুকু সফলতার আলো সরকার ও দেশবাসীকে দেখাতে পারেন তা সময়ই বলে দেবে।
SobuzBanlgadesh
.jpg)