পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, সামাজিক অবক্ষয় রোধ, দূর্নীতি প্রতিরোধ ও দেশের উন্নয়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে লক্ষ্মীপুর জেলার আইন-শৃঙ্খলা, জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সরকারি কার্যাবলির তদারকি ও সমন্বয় সংক্রান্ত সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী একথা বলেন। পরিবেশ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুর জেলার তদারকির দায়িত্ব পাওয়ার পর আজ প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান ভার্চ্যুয়ালি সভায় যুক্ত হন।
মন্ত্রী বলেন, সামাজিক অবক্ষয় একদিনে ঘটে না। প্রযুক্তির উদ্ভাবনের সাথে সাথে সঠিকভাবে সমাজকে খাপ খাওয়াতে হয়। এর দায়িত্ব পিতা মাতা, শিক্ষক, সচেতন নাগরিক ও রাষ্ট্রের। কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের একসাথে কাজ করতে হবে। সব সমস্যা শুধু রাষ্ট্রের ওপর ছেড়ে না দিয়ে সবাইকে যার যার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করার আহবান জানান তিনি।
সভায় জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ, গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল এবং বিচারাধীন মামলার নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে লক্ষ্মীপুর জেলায় মোট ২০৮টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে; এর মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ২৬টি, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ৬৬টি এবং অন্যান্য অপরাধ ৯১টি।
সভায় জানানো হয়, আগস্ট মাসে জেলার বিভিন্ন থানায় মোট ৮৫২টি গ্রেফতারি পরোয়ানা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। একই সময়ে মোট পেন্ডিং গ্রেফতারি পরোয়ানার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ১৪টিতে। পরোয়ানা তামিলের হার আরো বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পরিবেশ সুরক্ষায় জেলার বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। অবৈধ ইটভাটা বন্ধ, জমির টপসয়েল কর্তন ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদী-খাল ও পরিবেশ রক্ষা এবং নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। গত এক বছরে জেলার প্রশাসনের অভিযানে ৬৫টি অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন আইনে মোট ১ কোটি ২৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
সভায় আরো জানানো হয়, গত এক বছরে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযান পরিচালনা করে ১৬টি মামলা এবং ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। একই সময়ে জমির টপসয়েল কর্তন বন্ধে ৬৬টি অভিযান পরিচালনা করে ৫৯টি মামলা এবং ৩৩ লাখ ৮০ হাজার ১০০ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে সভায় জানানো হয়, জানুয়ারি থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে মোট ৯৮৭টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে ১৮৯টি মোবাইল কোর্ট মামলা ও ৫১টি নিয়মিত মামলাসহ মোট ২৪০টি মামলা হয়েছে। এ সময়ে ১৭ হাজার ২৫০ পিস ইয়াবা এবং ২৮ দশমিক ৮৫৯ কেজি গাঁজাসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
সভায় কিশোর গ্যাং অপরাধ প্রতিরোধে স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক আলোচনা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি খাল-বিল ও নদ-নদী দূষণ, নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার এবং অবৈধ দখল প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
সভায় জেলার চলমান সড়ক উন্নয়নকাজের কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ, পৌর এলাকায় অতিরিক্ত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ডাম্প ট্রাকের বেপরোয়া চলাচল, অবৈধ ইটভাটা, মাদক ও পরিবেশদূষণসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা হয়। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় লক্ষ্মীপুর -২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া এবং লক্ষ্মীপুর -১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা শাহাদাত হোসেন সেলিম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
লক্ষ্মীপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে সভায় পুলিশ সুপার আবু তারেক, সিভিল সার্জনসহ জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ, প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
SobuzBanlgadesh
.jpg)