স্টাফ রিপোর্টার
গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানাধীন চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থিত "আনোয়ারা ম্যানশনে "ই-ভ্যালি" আবাসিক হোটেল"-এ সংঘটিত গৃহবধূ হত্যা মামলার রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন করেছে গাজীপুর জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান আসামী মোঃ সাইফুল ইসলাম (৩৯) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের সময় তার হেফাজত থেকে নিহত মোসাঃ শান্তা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামী সাইফুল বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পুলিশ জানায়, ২১ জুলাই সোমবার দুপুরে মোসাঃ শান্তা বেগম (৩৩) তার তৃতীয় স্বামী পরিচয়ে আসামী মোঃ সাইফুল ইসলামের সঙ্গে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ বাসন থানাধীন চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার আনোয়ারা ম্যানশনে ইভ্যালি আবাসিক হোটেল"-এর তৃতীয় তলার ৩০৭ নং কক্ষ ভাড়া নেন। একই দিন রাত আনুমানিক পৌনে ১১টার দিকে হোটেল কর্তৃপক্ষের সংবাদের ভিত্তিতে বাসন থানা পুলিশ ওই কক্ষ থেকে বেগমের গলায় ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতযুক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার পর পিবিআই গাজীপুর জেলার ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে অজ্ঞাতনামা মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে। এ ঘটনায় ডিসিস্টের পিতা মোঃ শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
পিবিআই গাজীপুর জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল আক্তার-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে আজ বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই সকালে ডিএমপি দক্ষিণখান থানাধীন ফায়দাবাদ ট্রান্সমিটার মোড় এলাকা থেকে প্রধান আসামী মোঃ সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকারী সাইফুল ইসলাম জানায়, পারিবারিক কলহ ও স্ত্রীকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের সন্দেহের জেরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন হোটেলের কক্ষে পূর্বের বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে আসামি সাইফুল ইসলাম শান্তা বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে এবং ঘটনাস্থল থেকে শান্তার মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে পিবিআই গাজীপুর জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার জনাব মোঃ রকিবুল আক্তার বলেন, "অজ্ঞাতনামা হত্যাকাণ্ডের সংবাদ প্রাপ্তির পরপরই ক্রাইম সিন টিমকে ঘটনাস্থলে প্রেরণ করা হয় এবং একই সঙ্গে পৃথক একটি টিমকে ছায়া তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। পিবিআই প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত ধারাবাহিক তদন্তের ফলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।"
গ্রেফতারকৃত আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
SobuzBanlgadesh
.jpg)