ঢাকা |

শিক্ষকদের দায়িত্ব হীনতা ও অনিয়মের অভিযোগে ধুঁকছে ১৮৬ নং চর আইচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

শিক্ষকদের দায়িত্ব হীনতা  ও অনিয়মের অভিযোগে ধুঁকছে ১৮৬ নং চর আইচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছবির ক্যাপশন :
header 3_728
খুরশীদ আলম,ভোলা জেলা দক্ষিণ প্রতিনিধি।

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানাধীন ১৮৬ নং চর আইচা ৮নং ওয়ার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হওয়া এবং পাঠদান কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এতে বিদ্যালয়ের ১১৭ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগকারী শিক্ষক মোঃ নেসার উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ের সরকারি বেতনভুক্ত শিক্ষক মোঃ নাজমুল ও মোসাম্মদ মাহফুজা নিয়মিতভাবে পর্যাপ্ত সময় বিদ্যালয়ে অবস্থান করেন না। তার অভিযোগ, বিদ্যালয় সকাল সাড়ে ৯টার আগে খোলা হয় না এবং দুপুরের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। ফলে খসড়া গেজেটভুক্ত শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনায় বাধার মুখে পড়ছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ২০১৭ সালে প্রকাশিত খসড়া গেজেটভুক্ত শিক্ষক তালিকায় তারসহ চারজন শিক্ষকের নাম রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে বিদ্যালয়ে পাঠদান করে আসছেন। তবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ নাজমুল ও সহকারী শিক্ষক মোসাম্মদ মাহফুজার অসহযোগিতার কারণে তাদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে মোট অনুমোদিত পদ রয়েছে ছয়টি। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক একটি, সহকারী শিক্ষক চারটি এবং সংরক্ষিত সহকারী শিক্ষকের একটি পদ রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিদ্যালয়ে সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোঃ নাজমুল (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক) ও মোসাম্মদ মাহফুজা। এছাড়া খসড়া গেজেটভুক্ত শিক্ষক হিসেবে রয়েছেন মোঃ নেসার উদ্দিন, সফিউদ্দিন, রুবিনা আফরোজ ও জান্নাত। অস্থায়ী শিক্ষক হিসেবে রয়েছেন মহিউদ্দিন।

বিদ্যালয় সূত্রের তথ্যমতে, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১১৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে ২১ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১৮ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ১৮ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ২০ জন, পঞ্চম শ্রেণিতে ২০ জন এবং প্রাক প্রাথমিকে ২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ নাজমুল বলেন, তার বাড়ি আঞ্জুর হাট এলাকায় হওয়ায় বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হয়। তবে বিদ্যালয় দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা থাকে বলে তিনি দাবি করেন।

সহকারী শিক্ষক মোসাম্মদ মাহফুজা বলেন, সংসারিক কাজের কারণে মাঝে মাঝে বিদ্যালয়ে আসতে দেরি হয়। তবে তিনি সকাল সাড়ে ৯টার আগেই বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন বলে দাবি করেন।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সাল থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাবেয়া বেগম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত হয়ে পড়লে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রমে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে বিদ্যালয়ের জন্য ২০১১ সালে ৩৩ শতাংশ জমি দান করেন আবদুল হাকিম মোল্লা। জমিদাতা অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় মান্নান হাওলাদার নামে সাবেক এক সেনা সদস্য জোরপূর্বক বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব নেন। এতে জমিদাতা পরিবার বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে মান্নান হাওলাদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়গুলো সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দায়িত্ব হীনতা নিরসনে বেতনভুক্ত শিক্ষক দিয়ে শূন্য পদ পূরণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি, বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, অনুমোদিত পদে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : SobuzBanlgadesh
প্রতিবেদকের তথ্য
SobuzBanlgadesh

SobuzBanlgadesh

শিক্ষকদের দায়িত্ব হীনতা  ও অনিয়মের অভিযোগে ধুঁকছে ১৮৬ নং চর

শিক্ষকদের দায়িত্ব হীনতা ও অনিয়মের অভিযোগে ধুঁকছে ১৮৬ নং চর