ঢাকা | বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সকাল ৯টার মধ্যেই অফিসে সচিবরাও

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে  সকাল ৯টার মধ্যেই অফিসে সচিবরাও ছবির ক্যাপশন : সংগৃহীত ছবি
header 3_728
দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মিত সময় ধরে অফিস করছেন। বিশেষ কোনো কাজ না থাকলে তিনি সকাল ৯টার মধ্যে সচিবালয়ের অফিসে ঢুকে পড়ছেন। এমনকি শনিবারও তিনি অফিস করছেন তার তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অফিসে হাজির হচ্ছেন শীর্ষ কর্মকর্তারাও। অতীতের অভ্যাস পরিবর্তনে একটু সময় লাগলেও সচিবরা চেষ্টা করছেন সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে ঢুকতে। তবে অনেকের ক্ষেত্রে এখনো তা হয়ে উঠেনি। অবশ্য সে কারণে প্রধানমন্ত্রী তাদের কিছু বলেছেন, তাও নয়। বরং প্রধানমন্ত্রী কৌশলে তাদের পুরোনো অভ্যাস পরিবর্তনের জন্য নিজেই নীরবে সবার আগে অফিসে উপস্থিত হয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করছেন।
সোমবার সচিবালয়ে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সচিব সকাল সাড়ে ৮টা থেকে অফিসে ঢুকতে শুরু করেছেন। অনেকের ঢুকতে সাড়ে ৯টাও বেজে গেছে। আবার সকাল সাড়ে ৯টার পরও অনেকে অফিসে ঢুকতে পারেননি। সমালোচকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি দেখে অনেকে অভ্যাস পরিবর্তন করে ফেলেছেন। তারা নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে হাজির হচ্ছেন। আর যারা অভ্যাস পরিবর্তন করছেন না, তারা অনেকটা ‘ড্যাম কেয়ার’। তাদের কারও চাকরি শেষ পর্যায়ে, আবার কেউ আছেন চুক্তিভিক্তিক চাকরিতে। সুতরাং যে কোনো সময় চুক্তি বাতিল হতে পারে। সে কারণে তারা অনেকটা আগের নিয়মে অফিস করছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব আবু তাহের মো. জাবের। এর কয়েক মিনিট পর অফিসে প্রবেশ করেন মাধ্যমিক ও শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন। এর দুই মিনিট পর অফিসে আসেন বস্ত্র ও পাট সচিব বিলকিস জাহান রিমি। এর এক মিনিট পর অফিসে হাজির হন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। এর দুই মিনিট পর অফিসে প্রবেশ করেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরিন জাহান। প্রায় একই সময়ে অফিসে প্রবেশ করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান এবং সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ।
সকাল ৯টায় অফিসে আসেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ। একই সময়ে অফিসে ঢোকেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. একেএম শাহাবুদ্দিন।
অপরদিকে সকাল ৯টার পর সচিবালয়ে আসেন খাদ্যসচিব মো. ফিরোজ সরকার। তিনি ৯টা ২২ মিনিটে সচিবালয়ে প্রবেশ করেন। এর কয়েক মিনিট পর সচিবালয়ে প্রবেশ করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণসচিব মো. সাইদুর রহমান খান এবং কৃষিসচিব ইমদাদ উল্লাহ মিয়ান। তবে সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যেও অফিসে আসেননি গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান।
সমালোচকরা বলছেন, শীর্ষ কর্মকর্তারা সময়মতো অফিসে উপস্থিত হন না। যে কারণে অধস্তন কর্মকর্তারাও সময়মতো অফিসে হাজির হওয়াটাকে জরুরি জ্ঞান করেন না। এটা যে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ, তারা বিষয়টি বেমালুম ভুলে গেছেন। ফলে সরকারি অফিসে আসার ক্ষেত্রে সময় মানেন না অধিকাংশ কর্মচারী। আবার ফেরার সময় দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৩০ মিনিট আগেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেরিয়ে পড়েন। তখন আর সময় দেখা হয় না। এখানেই শেষ নয়। সচিবালয়ের দপ্তরগুলো সকাল সাড়ে ৮টার আগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখার কথা থাকলেও সকাল সাড়ে ৯টার পরও অনেক ক্লিনারকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রুম ধোয়া-মোছা করতে দেখা গেছে। ফলে ধুলাবালুর মধ্যে অফিস করতে হয় কর্মকর্তাদের।
জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব আবু তাহের মো. জাবের বলেন, তিনি চাকরিজীবনের প্রথম দিন থেকে সকাল সাড়ে ৮টায় অফিসে আসেন। যানজটে পড়লে দু-চার মিনিট দেরি হতে পারে। এর ব্যতিক্রম হয় না। অন্য কর্মকর্তারা প্রায় অভিন্ন ভাষায় বলেন, অনেক সময় রাস্তায় যানজটের কারণে বিলস্ব হয়। মন থেকে কেউ দেরি করে অফিসে আসেন বলে মনে হয় না।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : SobuzBanlgadesh
প্রতিবেদকের তথ্য
SobuzBanlgadesh

SobuzBanlgadesh

সর্বশেষ সংবাদ
নড়াইলের লোহাগড়ায় চঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠিন হুশিয়ারী দিলেন এমপ

নড়াইলের লোহাগড়ায় চঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠিন হুশিয়ারী দিলেন এমপ