ঢাকা |

যৌতুকের ৩ লাখ টাকা দিয়েও শ্বশুরবাড়িতে সুখের নাগাল পায়নি গৃহবধূ লিমা

যৌতুকের ৩ লাখ টাকা দিয়েও শ্বশুরবাড়িতে সুখের নাগাল পায়নি গৃহবধূ লিমা ছবির ক্যাপশন :
header 3_728
গাজী তাহের লিটন, স্টাফ রিপোর্টার

গরিবের মেয়ে মোসা. লিমা। সুখের সংসার হবে এ আশায় বাপের বাড়ি থেকে  তিন লাখ টাকা যৌতুক এনে দেয় স্বামীকে। কিন্তু, কপালে তার সুখের বদলে মিলেছে শারিরীক নির্যাতন সহ নানা নিপীড়ণ।

অভিযোগ সুত্রে জানাযায়: উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের ঝিটকা গ্রামের মো. মনির ফকির (৫২) তার মেয়ে মোসা. লিমার ওপর নির্যাতনের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্রে লিমার স্বামী বাছেদ, শাশুড়ি ও দেবরকে বিবাদী করা হয়েছে। লিমার শ্বশুর বাড়ি বোরহানউদ্দিন থানার দেউলা তালুকদার হাট এলাকায়। 

মনির ফকিরের অভিযোগ, প্রায় পাঁচ বছর আগে পারিবারিক সম্মতিতে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক বাছেদের সঙ্গে তার মেয়ে লিমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে লিমাকে বিভিন্ন সময় মারধর, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। অভিযোগে আরও বলা হয়, শাশুড়ির প্ররোচনায় তার মেয়ের সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ করা এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হতো।

অভিযোগকারী দাবি করেন, স্বামী বাছেদ ট্রাক কেনার কথা বলে তার কাছে টাকা চান। মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় তিনি জমি বিক্রি করে ৩ লাখ টাকা দেন। তবে ওই টাকা ফেরত না দিয়ে যৌতুক হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে আরও টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এছাড়া বিয়ের সময় জামাইকে ১ ভরি ২ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ও ৪ আনা ওজনের একটি আংটি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মনির ফকিরের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে কয়েক দিন ধরে তার মেয়েকে আরও যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। একপর্যায়ে প্রায় দুই দিন খাবার না দিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় এবং অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২৮ আগস্ট রাত ৪টার দিকে লিমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে তিনি তালুকদার হাট বাজার এলাকায় অবস্থান করলে বাজারের নাইট গার্ড মো. রফিজল তাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন এবং মোবাইল ফোনে তার বাবাকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে মনির ফকির দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ভুক্তভোগী লিমার দাবি, তার স্বামী বাছেদ নিয়মিত মাদক সেবন করে—মদ ও গাঁজা খাওয়ার পর তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। এছাড়া তার স্বামী বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে একাধিক বিয়ে করেন বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের অবহিত করার পর তাদের পরামর্শে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান মনির ফকির।

অন্যদিকে অভিযুক্ত বাছেদের ভাই আজগর এর কাছে উল্লেখিত বিষয় জানতে চাইলে, তিনি জানান, আমাদের বিরুদ্ধে যেই অভিযোগ দায়ের করেছে তা সম্পুর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। কিছু লোকের ইশারায় তারা এগুলো করতেছে। 

বোরহানউদ্দিন থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান  জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : SobuzBanlgadesh
প্রতিবেদকের তথ্য
SobuzBanlgadesh

SobuzBanlgadesh

সর্বশেষ সংবাদ
দৌলতখান সরকারি আবু আবদুল্লাহ কলেজে পূবালী ব্যাংকের বৃক্ষরোপণ

দৌলতখান সরকারি আবু আবদুল্লাহ কলেজে পূবালী ব্যাংকের বৃক্ষরোপণ