ভোলা জেলা দক্ষিণ প্রতিনিধি।
১৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মাদ্রাসা অধিদপ্তর ও কমিটির স্বাক্ষর জাল জালিয়াতি করে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও দক্ষিণ আইচা থানার বিএনপি সহ-সভাপতি মাওলানা আবুল বাশার হেলালী গায়েবীভাবে চলতি বছরের মে মাসে এ উপাধ্যক্ষকে এমপিও ভুক্তি করেছেন মর্মে অভিযোগ উঠেছে।
গায়েবি উপাধ্যক্ষের এমপিও বাতিল ও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাদ্রাসা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক/কর্মচারীবৃন্দ ।
অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন মাদ্রাসার কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর জাল জালিয়াতি মহাপরিচালক মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এর প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল জালিয়াতি করে ঢালচর মাদরাসায় কর্মরত সহ-সুপার জাকির হোসেনকে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেখিয়ে নিয়োগ ফাইল সৃজন করে মাদ্রাসা অধিদপ্তরের মাধ্যমে চলতি মে মাসের এমপিওতে তাকে এমপিওভুক্তি করেছেন মাদরাসাটির অধ্যক্ষ আবুল বশার হেলালি।
মাদরাসা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত মে/ ২০২৬ এর এমপিও পর্যালোচনায় দেখা যায় উপজেলার ঢালচর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার কর্মরত সহ- সুপার জাকির হোসেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে গোপন ভাবে দক্ষিণ চর আইচা রাব্বানীয়া আলীম মাদ্রাসায় উপাধ্যক্ষ পদে এমপিওভুক্ত হন।
বিষয়টি মাদরাসার অধ্যক্ষ ধামাচাপা দিলেও ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশ পেয়ে গেলে মাদরাসার শিক্ষক / কর্মচারী ও কমিটির মধ্যে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়।
মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক আব্দুস সহিদ জানান গতকাল আমাদের মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জনৈক মোঃ জাকির হোসেন কে আমাদের উপাধ্যক্ষ বলে সকল শিক্ষক/কর্মচারীর সামনে পরিচয় করিয়ে দিতে গেলে শিক্ষক/ কর্মচারীদের তোপের মুখে পরেন অধ্যক্ষ।
শিক্ষক কর্মচারীরা উপাধ্যক্ষর নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় জানতে চাইলে অধ্যক্ষ জানান উপাধ্যক্ষ সাহেবকে সরাসরি এনটিআরসিএ কতৃপক্ষ নিয়োগ দিয়ে তার মাদরাসায় প্রেরন করার পর তিনি বিষয়টি নিশ্চিত হতে বিলম্ব হওয়ার কারনে ৩ মাস পর তাকে মাদরাসায় যোগদান করিয়েছেন।।
গায়েবীভাবে এমপিওভুক্ত হওয়া জাকির হোসেনের নিয়োগ কিভাবে হয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান, তার কাছে নিয়োগ সংক্রান্ত কোন কাগজ নাই,মাদরাসার অধ্যক্ষ তাকে কোন কাগজ না দেওয়ার কারনে তার নিয়োগ কার মাধ্যমে হয়েছে সেটা তিনি জানেন না।
মাদরাসাটির অধ্যক্ষ আবুল বশার হেলালি জানান,বিধি মোতাবেক তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে,তবে কমিটি না এনটিআরসিএ নিয়োগ দিয়েছে সে বিষয়ে তিনি কোন কথা বলেন নি।পাশাপাশি ১৫ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহনের বিষয়টি ও তিনি এড়িয়ে যান।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মীর একেএম আবুল খায়ের জানান আমি উক্ত মাদ্রাসার কোন নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ছিলাম না এবং এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ কোন নিয়োগ দেয়নি।
মাদ্রাসার প্রধান জাল জালিয়াতি করে থাকলে মাদ্রাসা অধিদপ্তর তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেবে
বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ এনটিআরসিএর সচিব তাসনিম জোবিন বিনতে শেখ জানান, তারা কোথাও কোন অধ্যক্ষ বা উপাধ্যক্ষ নিয়োগ দেননি,তারা মাত্র লিখিত পরিক্ষা নিয়েছেন, মৌখিক পরিক্ষার তারিখ হয়নি।মৌখিক পরিক্ষা হলে পরবর্তীতে মন্ত্রণালযের সিদ্ধান্তের আলোকে নিয়োগ হবে।
মাদ্রাসা অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক অর্থ ও এমপিও যাচাই এবং অনুমোদন কমিটির সদস্য সচিব মোঃ শুকুর আলম মজুমদার জানান বিষয়টি আমি অবহিত হয়েছি তদন্তপূর্বক অতি দ্রুত ব্যবস্থা নেব।
মাদ্রাসা অধিদপ্তরের আইন শাখার সহকারি পরিচালক ইসমাইল হোসেন জানান এই জালিয়াতির বিষয়টি আমরা অবহিত হয়েছি। অতি দ্রুত তদন্তপূর্বক জালিয়াতি মুল হোতার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
SobuzBanlgadesh
.jpg)