ঢাকা |

শ্রেণীকক্ষের বেহাল দশা, বিদ্যালয়ের মাঠে চলছে পাঠদান

শ্রেণীকক্ষের বেহাল দশা, বিদ্যালয়ের মাঠে চলছে পাঠদান ছবির ক্যাপশন :
header 3_728
বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি:

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার সন্ন্যাসতলা নাসরিন সিদ্দিকী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণীকক্ষ ধীরে ধীরে ধসে পড়ছে পাশে থাকা পুকুরের পানিতে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। কোনমতে বাঁশ দ্বারা ঠেকা দিয়ে রাখা হয়েছে এবং দেয়ালের কিছুটা অংশ অনেক আগেই ধসে পড়েছে পাশে থাকা পুকুরের পানিতে। তাই জীবনের ঝুঁকি এড়াতে এবং পাঠদান চালু রাখতে বাধ্য  হয়ে খোলা আকাশের নিচে, বিদ্যালয়ের মাঠেই চলছে পাঠদান। তাছাড়াও বিদ্যালয়টির শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় নানা সমস্যার কথা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, 
বিদ্যালয় ভবনের একটি ক্লাসরুমের কিছু অংশ হঠাৎ ভেঙে পড়ে। পরবর্তীতে বাঁশ দ্বারা ঠেকা দেওয়া ও বিভিন্নভাবে ঘরটি আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। যেকোনো সময় পুরো কাঠামো ধসে পড়ে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। জরাজীর্ণ এই অবস্থার কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুমে ঢুকতে ভয় পাচ্ছেন। 

বিদ্যালয়টিতে অধ্যায়নরত একাধিক শিক্ষার্থী জানান, "জরাজীর্ণ ঘরের মধ্যে বসে ক্লাস করতে আমাদের খুব ভয় করে। বাহিরে মাঠে ক্লাস করতে গিয়ে রোদ-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবিলা করতে হচ্ছে, যা পড়ালেখার পরিবেশ বিনষ্ট করছে। অতি দ্রুত এই ভাঙা শ্রেণীকক্ষ মেরামত অথবা একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা না হলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অনেক চেষ্টা করেও জরাজীর্ণ এই কক্ষটিকে আর ব্যবহারের উপযোগী করা যায়নি। কতৃপক্ষের কাছে আমাদের আবেদন যেন দ্রুত আমাদের স্কুলটির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, যাতে আমাদের আর স্কুলের মাঠে ক্লাস না করতে হয়।"

বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক গৌর চন্দ্র জানান, "স্কুল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর অদ্যবদি সরকারি কোন অনুদানের বিল্ডিং পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সেইসময়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য টিন সিটের আধাপাকা  বিল্ডিং করেছিল সেটাই অদ্যবদি আছে। সেই রুমগুলো (পাশে পুকুর থাকায়)  ভেঙে যাওয়ায় স্কুলের ক্লাস নেওয়া অনেক অসুবিধা হচ্ছে। বর্তমানে স্কুলের ক্লাস ফাঁকা মাঠে নিতে হয়। রুম সংকটের কারণে মানবিক ও বিজ্ঞান বিভাগের ক্লাস যখন ভাগ হয়ে যায় তখন আমাদের অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। তাছাড়াও আমাদের বিদ্যালয়টি একটি বালিকা বিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও বিদ্যালয়ের চারিদিকে কোন বাউন্ডারি না থাকায় যখন তখন যত্রতত্র যে কেউ স্কুলে প্রবেশ করতে পারে এতে স্কুলে অধ্যায়নরত মেয়েদের অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়।"

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা জানান,"পুরাতন জরাজীর্ণ ক্লাসরুমগুলো সেই স্কুল প্রতিষ্ঠার সময় ম্যানেজিং কমিটির করে দিয়েছিলেন। বর্তমানে তা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমাদের যে পরিমাণ ক্লাসরুম দরকার সেই পরিমাণ ক্লাসরুম আমাদের এখন পর্যন্ত নেই। এই কারণে এই ঝুঁকিপূর্ণ ক্লাসরুমগুলোতেই আমাদের ক্লাস নিতে হচ্ছে। আমি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, খুব শীঘ্রই যদি রুমগুলো সংস্কারসহ পাঠদান কার্যক্রম চালানোর মতো একটি ভবন নির্মাণ করে দেন। তাহলে আমি আশা করি আমরা এই সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি পাবো।"

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনি বলেন, "আমি এই বিষয়ে অবগত আছি, সেই সময় সংস্কার কাজ হয়েছিল। তবে বৃষ্টির কারণে মাটি দিয়ে ভরাট করা যায়নি। আমরা অতি দ্রুত কাজ করার জন্য কথা বলেছি। উপজেলা প্রকৌশলী মহোদয় ছুটিতে আছেন, উনি ফিরে আসলেই ঠিক করে দিবেন।"

নিউজটি পোস্ট করেছেন : SobuzBanlgadesh
প্রতিবেদকের তথ্য
SobuzBanlgadesh

SobuzBanlgadesh

সর্বশেষ সংবাদ
শ্রেণীকক্ষের বেহাল দশা, বিদ্যালয়ের মাঠে চলছে পাঠদান

শ্রেণীকক্ষের বেহাল দশা, বিদ্যালয়ের মাঠে চলছে পাঠদান