ভোলা প্রতিনিধি: মোঃ ফারহান
ভোলার লালমোহন উপজেলায় তেঁতুলিয়া নদীর ইলিশের অভয়াশ্রমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারের দায়ে চার জেলেকে ১৪ দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটক অপর এক অপ্রাপ্তবয়স্ক জেলেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে লালমোহন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রেজওয়ানুল হকের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন। এর আগে মঙ্গলবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীতে অভিযান চালিয়ে পাঁচ জেলেকে আটক করা হয়।
সাজাপ্রাপ্ত জেলেরা হলেন বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. রাশেদ (২০), হযরত আলীর ছেলে মো. মোর্শেদ (২৪), আইয়ুব আলীর ছেলে মো. শামীম (১৯) এবং আব্দুল মজিদের ছেলে মো. ইমরান মৃধা (২৩)।
লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমদ আখন্দ জানান, মৎস্য বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে পরিচালিত যৌথ অভিযানে তেঁতুলিয়া নদী থেকে ওই জেলেদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে চারজনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযানে জেলেদের কাছ থেকে ১০ কেজি ইলিশ মাছ এবং প্রায় ৩০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা মাছ স্থানীয় একটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয় এবং কারেন্ট জাল আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।
জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আগামী ২৯ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় ভোলার মেঘনা নদীর ইলিশা থেকে চরপিয়াল পর্যন্ত ৯০ কিলোমিটার এবং তেঁতুলিয়া নদীর ভেদুরিয়া থেকে চররুস্তম পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এলাকায় মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশের ইলিশের ছয়টি অভয়াশ্রমের মধ্যে দুটি ভোলায় অবস্থিত। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে এসব অভয়াশ্রমে ইলিশ ধরা, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও পরিবহন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
SobuzBanlgadesh
.jpg)