স্টাফ রিপোর্টার
গাজীপুরের টঙ্গীতে বেসরকারি মাইশা জেনারেল হাসপাতালে জরায়ুর টিউমার অপারেশনের পর সেলিনা খাতুন (২১) নামে এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে হাসপাতালটির চিকিৎসা সেবা ও জবাবদিহিতা নিয়ে। এ ঘটনায় রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অপারেশনের পর জ্ঞান না ফেরার অভিযোগের পাশাপাশি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ‘মীমাংসা’ করার দাবিও উঠেছে।
মৃত সেলিনা খাতুন টঙ্গীর গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা এবং মোঃ মোক্তার হোসেনের মেয়ে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার শারীরিক সমস্যা অনুভব করলে সেলিনাকে টঙ্গী আহসানউল্লাহ জেনারেল হাসপাতালের বিপরীতে স্টেশন রোড সংলগ্ন মাইশা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর জরায়ুতে টিউমার হয়েছে বলে জানিয়ে দ্রুত অপারেশনের পরামর্শ দেয়। স্বজনদের অভিযোগ, বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে চিকিৎসক ডা. মোঃ মনির হোসেন ও অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত হাসপাতাল মালিক ডা. মতিউর রহমান রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। কিন্তু অপারেশনের পর সেলিনার আর জ্ঞান ফেরেনি বলে দাবি পরিবারের।
রোগীর পিতা মোক্তার হোসেন বলেন, আমার মেয়ের অপারেশন করার পর আর জ্ঞান ফেরেনি। পরে এলাকার কিছু মানুষের অনুরোধে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করেছি। ঘটনার পর হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এদিকে স্থানীয়দের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর আগেও হাসপাতালটি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের পোস্ট ও আলোচনা দেখা গেছে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন একটি অপারেশনের পর রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় কেন আনুষ্ঠানিক তদন্ত হবে না? যদি চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি না থাকে, তাহলে স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া উচিত বলেও মনে করছেন তারা। ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের মালিক ডা. মতিউর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে গাজীপুর সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মামুনুর রহমান বলেন, আমি বিষয়টি শুনিনি, কেউ অভিযোগও করেনি। পরে হাসপাতালের কাগজপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাইশা হাসপাতালের কাগজপত্র ৩০ জুন পর্যন্ত বৈধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে আগামীকাল অফিসে ডাকা হয়েছে। এ ঘটনায় অপারেশনের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল কিনা এবং অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
SobuzBanlgadesh
.jpg)