এস এম আসাদুজ্জামান মিলন, গাজীপুরঃ
ভোররাত থেকে অতিবৃষ্টির কারনে গাজীপুর মহানগরী, কালিয়াকৈর পৌরসভার, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। শতশত ঘরবাড়ি বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন ও পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। ফলে এসকল এলাকায় রান্না বন্ধ থাকায় খাবার সংকট ও তীব্র পানীয় জলের অভাব দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার ১৬ জুন সকাল থেকে মৌচাক ইউনিয়নের রাখালিয়াচালা, ৬ নং ওয়ার্ডের কলাবাধা, যুগীরচালা, কালিয়াকৈর পৌরসভার বিশ্বাসপাড়া, হরিণহাটি, কালামপুর, দিঘিরপাড়, আদর্শপাড়া, ডাইনকিনী ও হরতকীতলা এলাকায় রাস্তাঘাট, অলিগলি এবং শতশত বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আনসার একাডেমির ৩নং গেট সংলগ্ন মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যান চলাচলে বাধার সৃষ্টি হওয়ায় দিনব্যাপী ওই যানযটের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও গাজীপুর মহানগরীর জয়দেবপুর বাজার, কোনাবাড়ী থানাধীন হরিনাচালা, জেলখানা রোড, ইটাহাটার নামা এলাকাসহ অনেক এলাকা পানিতে ডুবে যায়। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় ওই এলাকার শতশত পরিবারকে।
এই এলাকাগুলোতে বসবাসকারী অধিকাংশ মানুষ গার্মেন্টস কর্মী হওয়ায় বেশিরভাগ গার্মেন্টস কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে। কিছুকিছু গার্মেন্টস কারখানায় পানি জমে কারখানা বন্ধ করে দেয়। অতি ভারী বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি জমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাচরম ভাবে ব্যাহত হয়েছে। অনেক বাড়ির আঙিনা ও ঘরের ভেতরে পানি প্রবেশ করায় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী আলামীন জানান, সকাল থেকে কাজে যাওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে ঘরে পানি ঢুকতে থাকে। ঘরের মালামাল কোথাও সড়ানোর উপায় ছিলনা, সব জায়গায় পানি ছিল। ঘরের সবকিছু ভিজে গেছে।
এলাকাবাসী জানান, প্রতিবছর বর্ষায় এসকল এলাকায় পানি জমে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কিন্তু এসকল বিষয়ে স্থানীয় দায়িত্বশীলরা কোন প্রকার ব্যবস্থা নেন না। অপরিকল্পিত ভাবে বাড়ীঘর নির্মান ড্রেনেজ ব্যবস্থার অপ্রতুলতার এই জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয় বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।
কোনাবাড়ী এলাকার ফাহিম জানান, গাজীপুর সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার ১৩ বছর পার হলেও জলাবদ্ধতা নিরসনে দৃশ্যমান ও স্থায়ী কোনো সমাধান এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। নগরের অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই, খালগুলো দখল ও ভরাটের শিকার, আর যেখানে ড্রেন আছে সেখানেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব দেখা যায়। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকে। এই জলাবদ্ধতা শুধু মানুষের চলাচল ব্যাহত করে না, বরং ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অনেক নিম্নাঞ্চলের বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে যায়, নষ্ট হয় আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী। অথচ এই সমস্যাগুলোর সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন ছিল অনেক আগেই।
নগরবাসী বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। তাই এখন সময় এসেছে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের। আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ এবং সঠিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার মাধ্যমে গাজীপুরকে একটি বাসযোগ্য ও জলাবদ্ধতামুক্ত নগরীতে পরিণত হতে দেখতে চাই। নগরবাসী আর নতুন আশ্বাস নয়, বাস্তব ও স্থায়ী সমাধান দেখতে চায়।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, জলাবদ্ধতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
SobuzBanlgadesh
.jpg)