এস এম আসাদুজ্জামান মিলন, গাজীপুরঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকায় মৌচাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম নুরুল আলম। তার বিচার ও অপসারণের দাবিতে রবিবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় কালিয়াকৈর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন অভিভাবক জানান, মৌচাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুরুল আলম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে শ্রেণিকক্ষে কিংবা প্রাইভেট পড়ানোর সময় শিক্ষার্থীদের নানা অজুহাতে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতেন। শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ করলে তাদের পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়াসহ নানা ভয়ভীতি দেখানো হতো বলেও অভিযোগ করেন অভিভাবকরা। পরে বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বিষয়টি তার মাকে জানায়। বিষয়টি জানার পর শিক্ষার্থীর মা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাউছার পারভীনকে অবহিত করেন। পরে সহকারী শিক্ষক নুরুল আলম এবং হয়রানির শিকার কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক কাউছার পারভীন। এদিকে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত নুরুল আলম গত কয়েক দিন ধরে ছুটির অজুহাত দেখিয়ে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন।
হয়রানির শিকার এক শিক্ষার্থীর মা জানান, নুরুল আলম নানা অজুহাতে আমার মেয়েসহ ক্লাসের মেয়েদের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতেন। বিষয়টি আমার মেয়ে আমাকে জানালে আমি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অবহিত করি। আমরা ওই শিক্ষকের বিচার ও অপসারণ দাবি করছি।
অপর অভিভাবক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আমরা ওই শিক্ষকের বিচার চাই। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ মেনে নেওয়া যায় না।
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, স্যার নানা সময় আমার গায়ে হাত দিতেন। কাউকে জানালে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখাতেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাউছার পারভীন বলেন, বিষয়টি জানার পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি শিক্ষা কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী শিক্ষক নুরুল আলম বলেন, এটি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। আমাকে স্কুল থেকে সরিয়ে দিতে একটি পক্ষ শিক্ষার্থীদের দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করাচ্ছে।
কালিয়াকৈর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, ওই ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
SobuzBanlgadesh
.jpg)