যশোর প্রতিনিধি - মোঃ তারিক হাসান (রকি)
যশোর সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বিকাল ৪ ঘটিকার সময় একটি পক্ষ মসজিদের মাইকে ‘ডাকাত এসেছে’ বলে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত ১২-১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিন জনকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় রিমা নামে ওই গৃহবধূকে নির্যাতনের পর হত্যা করে আত্মহত্যা বলে প্রচারের চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যদিকে, শ্বশুরবাড়ির দাবি, পারিবারিক অভিমানের জেরে রিমা আত্মহত্যা করেছেন। এদিকে মরদেহের কপালে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যাওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে নতুন রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত রিমা যশোর সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের টিপু সুলতানের স্ত্রী ও ঝুমঝুমপুর বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের অছেল মোল্লার মেয়ে।
আহতদের মধ্যে বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের হাসনাত (৩৫), সোহেল রানা (৪২) এবং অন্তু (২১) যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রিমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করছিল। বুধবার বিকেলে হঠাৎ করে আরও ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় তাকে হত্যা করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হয়।
খবর পেয়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে রিমার বড় ভাই লিটন হোসেন, চাচাতো ভাই হাসনাত, রাজিন,সোহেল রানা, চাচা রিপন এবং অন্যান্য স্বজন গোপালপুরে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে মরদেহ দেখতে চান। রিমার শরীরে ও কপালে আঘাতের চিহ্ন দেখে তারা প্রতিবাদ জানান। এ সময় ঘটনাটি মীমাংসার জন্য টিপু ও তার পরিবারের সদস্যরা চাপ সৃষ্টি করেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে টিপুর পক্ষের লোকজন মসজিদের মাইকে ‘ডাকাত এসেছে’ বলে ঘোষণা দিলে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে নিহতের স্বজনদের ওপর হামলা চালায়। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল এবং ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মমিনুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে রিমার মরদেহ যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কোতোয়ালি থানায় অবস্থান করছেন।
অন্যদিকে, টিপুর পরিবারের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে রিমা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তাকে হত্যা করা হয়নি।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, "ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। দুই পক্ষের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হবে।
SobuzBanlgadesh
.jpg)