ঢাকা |

ভোলার গ্যাস যাচ্ছে ঢাকার শিল্পকারখানায়, বাড়ছে সরবরাহ

ভোলার গ্যাস যাচ্ছে ঢাকার শিল্পকারখানায়, বাড়ছে সরবরাহ ছবির ক্যাপশন : সবুজ বাংলাদেশ
header 3_728
ভোলা প্রতিনিধি: মোঃ ফারহান

ঢাকার বিভিন্ন শিল্পকারখানায় জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভোলা থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৭টি গ্যাসবাহী কাভার্ড ট্যাংকারে করে ভোলার গ্যাস ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। এসব গ্যাস প্রায় ৩০টি শিল্পকারখানায় ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপনায় ভোলার গ্যাস সিএনজি আকারে সংকুচিত করে ট্যাংকারে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে। পরে ঢাকায় ডিকম্প্রেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্যাস শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

সুন্দরবন গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, গত কয়েক দিনে ভোলা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস সিএনজি করা হয়েছে। মঙ্গলবার ২ দশমিক ৩১ মিলিয়ন, বুধবার ২ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন এবং বৃহস্পতিবার ২ দশমিক ২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সিএনজি করে ঢাকায় পাঠানো হয়।

ইন্ট্রাকোর প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আব্বাস জানান, চাহিদা থাকলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ট্যাংকার সংকটের কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে তাদের ৩৪টি কাভার্ড ট্যাংকার রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৭টি ট্যাংকার ভোলা থেকে গ্যাস নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছে এবং গ্যাস সরবরাহ শেষে আবার ভোলায় ফিরে আসছে।

ইন্ট্রাকোর তথ্যমতে, ভোলা থেকে বর্তমানে এসিআই সল্ট, আকিজ টেক্সটাইল, স্কয়ার নিট কম্পোজিট, স্কয়ার গ্রুপ, ফকির ফ্যাশন, এনজেড গ্রুপ, বেক্সিমকো, গোমতি টেক্সটাইল, আসওয়াদ কম্পোজিট মিলস, আল-মুসলিম, আরকে নিট, ব্লু ক্রিয়েশন, প্রতীক সিরামিকস ও এবিআর স্পিনিং মিলসসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। নতুন করে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এই গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ভোলার গ্যাস ঢাকায় সরবরাহ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষও রয়েছে। স্থানীয় গ্যাস আন্দোলনের দক্ষিণাঞ্চলীয় কমিটির সভাপতি মোবাশ্বের উল্লাহ অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই ইন্ট্রাকো ভোলার গ্যাস নিয়ে যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহের পরিমাণ বেড়েছে। তার দাবি, ভোলা শহরে আবাসিক গ্যাস সংযোগ দেওয়ার পর অতিরিক্ত গ্যাস ঢাকায় নেওয়ার কথা থাকলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি।

সুন্দরবন গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির খুলনা জোনের ডিজিএম মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস ১৭ টাকা দরে কিনে ইন্ট্রাকো শিল্পকারখানায় ৪৮ টাকা দরে বিক্রি করছে। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস নেওয়ার সুযোগ পায়। তবে বর্তমানে ট্যাংকার সংকটসহ বিভিন্ন কারণে সেই পরিমাণ গ্যাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

অন্যদিকে গ্যাস পরিবহণের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভোলার ইলিশা ফেরিঘাট থেকে যাত্রীবাহী ফেরিতে প্রতিদিন গ্যাসবাহী কাভার্ড ট্যাংকার ঢাকার দিকে নেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। কার্নিভালক্রুজ ও কার্নিভাল ওয়েব ফেরিতে প্রতিদিন কয়েকটি করে গ্যাসবাহী ট্যাংকার পরিবহণ করা হচ্ছে।

তবে ইন্ট্রাকোর প্রকল্প ব্যবস্থাপক দাবি করেন, তাদের গ্যাসবাহী যানবাহন ও ট্যাংকারগুলো বিস্ফোরক আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় সনদপ্রাপ্ত। অনুমোদিত ট্যাংকারের মাধ্যমেই গ্যাস পরিবহণ করা হচ্ছে। ট্যাংকারের সংখ্যা বাড়ানো গেলে ভোলা থেকে আরও বেশি গ্যাস ঢাকার শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

ভোলার গ্যাসের এই সরবরাহ ব্যবস্থা একদিকে ঢাকার শিল্পকারখানার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখলেও, অন্যদিকে স্থানীয়দের মধ্যে ভোলার নিজস্ব গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ ও চুক্তির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : SobuzBanlgadesh
প্রতিবেদকের তথ্য
SobuzBanlgadesh

SobuzBanlgadesh

সর্বশেষ সংবাদ
সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় আরো ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ করা হব

সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় আরো ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ করা হব