ঘটনার প্রকৃত চিত্র গণমাধ্যমে যথাযথভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থতা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি সামনে এনে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তাকে বর্তমানে মহাব্যবস্থাপকের দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার পরিবর্তে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে জনসংযোগ বিভাগের দায়িত্ব পেয়েছেন করপোরেট প্ল্যানিং বিভাগের জিএম মো. মহিউদ্দিন।
প্রায় ৪০ ঘণ্টা বিমানবন্দরে যাত্রীরা টরন্টো থেকে ঢাকাগামী বিজি-৩০৬ ফ্লাইটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে রোমের ফিউমিচিনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। এরপর প্রায় ১৭০ জন বাংলাদেশি যাত্রী সেখানে আটকা পড়েন। ভিসা জটিলতার কারণে তাদের প্রায় ৪০ ঘণ্টা বিমানবন্দরের লাউঞ্জে অবস্থান করতে হয়। যাত্রীদের অভিযোগ, অনেককে লাউঞ্জের মেঝেতেও রাত কাটাতে হয়েছে।
বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পাসপোর্টধারী কয়েকজন যাত্রীকে হোটেলে নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অবস্থান, খাবারের সংকট এবং দেশে ফেরার অনিশ্চয়তায় যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। খাবার ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ ফ্লাইটের এক যাত্রীর স্বজন এমএস সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, প্রায় তিন দিনের মধ্যে যাত্রীদের মাত্র দুই বেলা খাবার দেওয়া হয়েছিল এবং খাবারের মানও সন্তোষজনক ছিল না। তার মেয়ে ওই ফ্লাইটে ছিলেন এবং তাকে আলাদাভাবে খাবার কিনে খেতে হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অভিযোগ, জরুরি অবতরণের কারণ নিয়েও শুরুতে পরিষ্কার তথ্য দেওয়া হয়নি। প্রথমে বিমানের এসি নষ্ট হওয়ার কথা বলা হয়, পরে সামান্য ত্রুটি এবং এরপর বিমানে আগুন লাগার মতো ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়। এতে যাত্রীরা আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যান।
তদন্তে একাধিক বিষয় বিমান সূত্র জানিয়েছে, তদন্তে শুধু জনসংযোগ বিভাগের ভূমিকা নয়, ফ্লাইট পরিচালনা, যাত্রী ব্যবস্থাপনা এবং সংকট মোকাবিলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে— ফ্লাইটটি কেন জরুরি অবতরণ করল; জরুরি অবতরণের পর যাত্রীদের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল; কেন তাদের দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে থাকতে হলো; যাত্রীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়েছিল কি না; সংকটের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা কী ছিল; গণমাধ্যমকে সঠিক তথ্য দেওয়া হয়েছিল কি না— এসব বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ক্রু সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
রোমে পাঠানো হয় প্রকৌশলী দল বিমানটির ত্রুটি মেরামতের জন্য ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দল রোমে পাঠানো হয়। তারা প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ সম্পন্ন করার পর স্থানীয় সময় শনিবার রাতে ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ফ্লাইটটি ঢাকায় পৌঁছায়।
দেশে ফেরার পর ক্ষুব্ধ যাত্রীরা তাদের ভোগান্তির কথা বিমান কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরেন এবং গণমাধ্যমের কাছেও অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আরও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আসতে পারে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রোমের ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। তদন্তে কারও দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) একাধিক সূত্রও বোসরা ইসলামকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তারা জানিয়েছে।
এদিকে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বোসরা ইসলামের সঙ্গেও গত কয়েক দিন ধরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। রোমের এই ঘটনা সামনে এনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের যাত্রীসেবা, সংকট ব্যবস্থাপনা এবং তথ্য প্রকাশের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার প্রকৃত দায় ও সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
SobuzBanlgadesh
.jpg)