ঢাকা |

সাংবিধানিকভাবে সকলের পরিচয় একটাই—বাংলাদেশি — স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাংবিধানিকভাবে সকলের পরিচয় একটাই—বাংলাদেশি — স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছবির ক্যাপশন :
header 3_728
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভৌগোলিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী সব নাগরিকের মূল পরিচয় একটাই—‘বাংলাদেশি’। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা সমানভাবে সুরক্ষিত।

গতকাল রাজধানীর গুলশানের ক্রাউন প্লাজা হোটেলের বলরুমে Chittagong Hill Tracts Research Foundation আয়োজিত ‘Indigenous Identity is Irrelevant for Bangladesh’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস রিসার্চ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

জাতীয় পরিচয় ও নাগরিক অধিকার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানায় বসবাসরত সব নাগরিক সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করেন। রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ দেশের সব রাজনৈতিক দল ও অংশীজন সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের সর্বস্তরের মানুষের পরিচয় ‘বাংলাদেশি’ হবে বলে সম্মত হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তার মতে, এই জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার অন্যতম ভিত্তি।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষার কথা

অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, উপজাতি ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা, বিকাশ ও সংরক্ষণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, জাতীয় মূলধারার সঙ্গে সমতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, নারী ও শিশুদের কল্যাণে রাষ্ট্র বিশেষ সুবিধা ও কোটা ব্যবস্থা রেখেছে, যা সংবিধানেও স্বীকৃত।

পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বহুভাষী ও বহুজাতিক রাষ্ট্রের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক দেশে শতাধিক ভাষা প্রচলিত থাকলেও পৃথক ‘আদিবাসী’ সত্তার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। বরং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে মূলধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ঘোষণার প্রসঙ্গ

মন্ত্রী আরও বলেন, ২০০৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর গৃহীত জাতিসংঘের ‘United Nations Declaration on the Rights of Indigenous Peoples’-এর বিষয়ে বাংলাদেশ শুরু থেকেই একটি স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছিল।

তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ ওই ভোটাভুটিতে ভোটদানে বিরত ছিল এবং বিশ্বের বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী রাষ্ট্রও এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ওই আন্তর্জাতিক ডিক্লারেশন কিংবা ILO Convention 169 বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় এবং বাংলাদেশ এর অংশীদারও নয়।

গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণ

গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) রাশেদ খান, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী (অব.), মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান এবং মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আব্দুর রবসহ অনেকে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : SobuzBanlgadesh
প্রতিবেদকের তথ্য
SobuzBanlgadesh

SobuzBanlgadesh

সর্বশেষ সংবাদ
উত্তরায় শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ গভর্নিং বডির দায়িত্ব গ্র

উত্তরায় শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ গভর্নিং বডির দায়িত্ব গ্র