এইচ এম মাহমুদ হাসান
প্রযুক্তিতে স্বনির্ভর হতে তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন দেশের খ্যাতিমান কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ।
শনিবার শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির (এসএমইউসিটি) স্থায়ী ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত ‘সিএসই ফেস্ট ২০২৬ (ভার্সন ৩.০)’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমাদের আর ঘুমিয়ে থাকলে চলবে না। এখনও সময় আছে জেগে ওঠার। বহির্বিশ্বের দিকে তাকিয়ে না থেকে প্রযুক্তিতে স্বনির্ভর হতে হবে। নিজেদের উদ্ভাবনের মাধ্যমে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি (সিএসআইটি) বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী এ প্রযুক্তি উৎসবে দেশের ৪৫টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। শিক্ষক, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে উৎসবটি প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও জ্ঞানবিনিময়ের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।
সিএসই বিভাগের প্রধান ও ফেস্ট আয়োজক কমিটির সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ফয়সাল ইমরানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট শিল্পী অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হক, উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহ-ই-আলম, ফ্যাকাল্টি অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক, রেজিস্ট্রার ড. পাড় মশিয়ূর রহমান, সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসির অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ রিস্ক অফিসার মো. মাহবুব আলম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও প্রক্টর ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) অধ্যাপক ও আইআইসিটির পরিচালক ড. মো. রবিউল ইসলাম।
এবারের ফেস্টে মোট ১০টি প্রতিযোগিতামূলক ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় পর্যায়ে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্যাপচার দ্য ফ্ল্যাগ (সিটিএফ), আইওটি ও রোবোটিক্স প্রজেক্ট শোকেস, সফটওয়্যার প্রজেক্ট শোকেস এবং কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য আইডিয়া শোকেস কনটেস্ট আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রোগ্রামিং কনটেস্ট, ডেটা সায়েন্স ডেটাথন, রোবো সকার, লাইন ফলোয়ার রোবট (এলএফআর) এবং ভ্যালোরেন্ট ও এফসি-২৬ গেমিং টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।
বিকেলে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি হয়। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে এক লাখ টাকার বেশি প্রাইজপুল থেকে পুরস্কার, মেডেল, ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের স্পন্সর ছিল পূবালী ব্যাংক পিএলসি ও সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি। দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রযুক্তি শিক্ষার বিকাশে শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, ‘সিএসই ফেস্ট’ কেবল একটি প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা নয়; এটি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণা, দলগত কাজ এবং বাস্তব সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান উপস্থাপনের কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংযোগ স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি করে।
তারা আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষা, গবেষণা ও শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তিবিদ তৈরিতে শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও নেতৃত্ব বিকাশে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
SobuzBanlgadesh
.jpg)